হারিয়ে যাচ্ছে নতুন বইয়ে মলাট লাগানোর রীতি

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে নতুন বই। নতুন বই হাতে পেয়ে তাঁরা খুশি আর উচ্ছ্বসিত। আগ্রহ আর

2026-01-15T15:25:01+00:00
2026-01-15T15:25:01+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
হারিয়ে যাচ্ছে নতুন বইয়ে মলাট লাগানোর রীতি
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম   (ভিজিট : ২৭০)
X

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে নতুন বই। নতুন বই হাতে পেয়ে তাঁরা খুশি আর উচ্ছ্বসিত। আগ্রহ আর বিস্ময়ভরা চোখে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে দেখে ছবি আর পড়া।

পরিচিত হয় নতুন পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে। এ যেন শুধু বই নয়- একমুঠো স্বপ্ন। এই স্বপ্নের সঙ্গে শুরু হলো এক বছরের পথচলা।

তাই স্বপ্নকে রাখতে হবে 'সুরক্ষিত'। লাগাতে হবে মলাট। সময়ের বিবর্তনে নতুন বইয়ে মলাট লাগানোর রীতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকটা কমে গেছে। তবে কমে গেলেও হারিয়ে যায়নি। সম্প্রতি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে এমনই দ্বৈত চিত্র দেখা গেল।

উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুসফিকা ইয়াসমিন বইয়ে মলাট লাগিয়েছে। সে জানালো, স্থানীয় একটি বাজার থেকে মলাট কিনে এনে তাঁর মা বইয়ে মলাট লাগিয়ে দিয়েছে।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. মুসতারিয়া জানালো, তাঁর বাবা বাজার থেকে মলাট কিনে এনেছে। তাঁর মা মলাট লাগিয়ে দিয়েছে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক গৌর চন্দ্র বললেন, আমরা বছরের প্রথম দিনেই বই দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মলাট লাগানোর কথা বলি। উৎসাহিত করি।

তবে বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানালো, তাঁদের শিক্ষকেরা মলাট লাগানোর জন্য তেমন কিছু বলে না। বাড়িতেও কেউ লাগিয়ে দেয় না। তাই মলাট লাগানো হয় না।

মলাট লাগানোর স্মৃতি রোমন্থন করে ব্যবসায়ী শাহজাহান শাজু জানালেন, আমাদের সময় মাধ্যমিক স্তরে বই কিনতে হতো। বার্ষিক পরীক্ষায় পাস করে পরের শ্রেণিতে উঠলে বইগুলো আরেক শিক্ষার্থীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার প্রচলন ছিল। তাই বইগুলোই মলাট লাগিয়ে যত্নসহকারে পড়তাম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকেরা প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে নতুন বই নিয়ে যান। তখন শিক্ষকদের বলা হয়- তাঁরা যেন শিক্ষার্থীদের বইগুলো সেলাই করতে ও মলাট লাগাতে উৎসাহিত করে।

লেখক ও শিক্ষক আইনাল হক জানালেন, কৈশোরে স্কুল থেকে নতুন বই পাওয়া যেমন আনন্দের তেমনি সেটিকে যত্নে রাখাও দায়িত্বের। ছোট বেলায় প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিকের নতুন বই বাড়িতে বই আনার সাথে সাথে শিক্ষকদের কথামতো সেটি মলাট বন্দীর প্রতিযোগিতা লেগে যেত। মজার বিষয় হচ্ছে সেসময় কাগজের সিমেন্টের বস্তা ছিল, সিমেন্ট ব্যবহারের পর তা বইয়ে মলাট বাঁধার জন্য সংরক্ষণ করা হত। পরবর্তীতে পুরাতন ক্যালেন্ডারের পাতা মলাট হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানেও মলাট হিসেবে ক্যালেন্ডার ব্যবহারের অল্প-বিস্তর প্রচলন দেখা যায়। কিন্তু আগের মতো কোন উন্মাদনা নেই, নেই উৎসবমুখর আমেজ। তবে আশা রাখি, শিক্ষার্থীরা প্রিয় বইকে নতুন রাখার প্রানবন্ত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মলাট ব্যবহারে আগ্রহী হবে। এ ব্যাপারে অভিভাবকদেরও সচেতন হবার আহবান জানান তিনি।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy