ফ্ল্যাটে লুকানো মা-মেয়ের লাশ, ২১ দিন পর বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মা ও মেয়েকে একসঙ্গে হত্যার পর ২১ দিন ধরে তাদের লাশ ফ্ল্যাটে

2026-01-17T12:15:04+00:00
2026-01-17T12:15:04+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ফ্ল্যাটে লুকানো মা-মেয়ের লাশ, ২১ দিন পর বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম   (ভিজিট : ৪৬)
X

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মা ও মেয়েকে একসঙ্গে হত্যার পর ২১ দিন ধরে তাদের লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই পরিবারসহ বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪)-এর ভাড়া বাসা থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নুসরাত মীম, তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং তার ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ ২১ দিন ধরে মরদেহ দুটি ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্তরা সেখানে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে মা-মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম এক ব্রিফিংয়ে জানান, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তার শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও কর্তৃপক্ষ রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে রোকেয়া ও নুসরাতের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়।

তিনি জানান, ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে জোবাইদার সঙ্গে নুসরাতের ১৫ বছর বয়সী বোনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই বোন গলা চেপে জোবাইদাকে হত্যা করে।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জোবাইদার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয় নুসরাতের বোন, যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় জোবাইদা নিজেই বাসা ছেড়ে গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর নুসরাত ফোন করে জোবাইদার মাকে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান।

মেয়েকে নিতে বাসায় এলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়ার গলা চেপে ধরেন নুসরাত। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধ করে রোকেয়াকে হত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, রোকেয়ার মরদেহ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং জোবাইদার মরদেহ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর অভিযুক্ত দুই বোন ও তাদের পরিবার প্রায় ২১ দিন ওই ফ্ল্যাটেই বসবাস করে।

ওসি সাইফুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত মীম ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy