সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির পর ইরানে নতুন নেতৃত্বের দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসে গেছে।”
বিক্ষোভকারীদের দমন-পীড়নের ঘটনায় খামেনির তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “একটি দেশের নেতা হিসেবে তিনি যা করেছেন, তা দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে মাত্রার সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “দেশ পরিচালনার দায়িত্ব— যদিও এটি খুবই মৌলিক বিষয়— ইরানের নেতাদের উচিত সঠিকভাবে দেশ পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া। যেমনটা আমি যুক্তরাষ্ট্রে করি। দেশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা কোনো নেতৃত্বের উদাহরণ হতে পারে না। নেতৃত্ব মানে শ্রদ্ধা অর্জন, ভয় কিংবা মৃত্যুর মাধ্যমে শাসন নয়।”
এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগেই তার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ইরানের জনগণের ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে এসেছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই দায়ী।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ৮ ও ৯ জানুয়ারি সহিংস রূপ নেয়। এ সময় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।