
X
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হচ্ছে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার নির্বাচন, জনগণের শাসন কায়েমের নির্বাচন, দেশ গড়ার নির্বাচন। তাই ফজরের নামাজ নয় তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েই ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। দলীয় নেতা কর্মীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। একটা দল নানাভাবে ভোট দখলের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাসুল (সা.) ন্যায়পরায়নতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদের মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। দিল্লিও নয়, পিন্ডিও নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।
তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। ৫০ বছর আগেই তাদেরকে দেখেছি। ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে তারা স্বাধীনতার বিরোধী পক্ষের সাথে ছিল। যাঁদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তাঁদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।’
শায়েস্তাগঞ্জে লক্ষাধিক জনগণের উপস্থিতিতে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপি দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করেন তারেক রহমান। দুটি কার্ড দেখিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চা বাগানের নারী শ্রমিক, গ্রাম গঞ্জের নারীদের জন্য ফ্যামেলী কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি কীভাবে একের পর এক প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’
হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান আসেন ৫টা ৩৪ মিনিটে। নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে মঞ্চেই তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং প্রায় ২৮ মিনিট বক্তব্য দেন। তিনি আসার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে সমাবেশস্থল। মঞ্চে উঠে বিএনপির চেয়ারম্যান হাত নেড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার সিফা। এ সময় হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের তিনি পরিচয় করিয়ে দেন। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম ইসলাম তরফদার তনু। বক্তব্য রাখেন বিএনপি প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, ড. রেজা কিবরিয়া, জিকে গউছ, এসএম ফয়সল ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমদ আলী মুকিম।
জনসভায় তারেক রহমান আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করবে। যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। বিদেশগামী যুবকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা দেখেই বুঝা যায় আপনাদের এলাকার স্কুল কলেজ ও হাসপাতালের কী অবস্থা। তিনি প্রশ্ন করেন- এ দেশ কার ? জনগণের দেশ। দেশের মালিক জনগণ। জনগণকেই ভোটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, এনআইডি সংগ্রহ করছে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগেই অসৎ হলে তারা কিভাবে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে?
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলকে উল্লেখ করে তিনি বলেন তারা দেখিয়েছেন কিভাবে দেশ শাসন করতে হয়। সৎ মানুষের শাসন একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
এর আগে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নেতা-কর্মীরা আজ সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। তাঁরা ধানের শীষ, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন। অনেকে মাথায় ধানের শীষের ছবিসংবলিত টুপি আর কপালে দলীয় পতাকা বেঁধে সভায় হাজির হন।