প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১০ পিএম (ভিজিট : ২২৮)

X
চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ২২ হাজার ৮ শত ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেওয়ায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানি দিতে না পারায় বোরো আবাদ নিয়ে বাড়ছে আশঙ্কা।
স্থানীয় কৃষক ও সেচ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচনির্ভর ফসল হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। স্থানীয়দের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ৮ ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে গভীর ও অগভীর নলকূপ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক লিটন খাঁ বলেন, বোরো মৌসুমে সময়মতো জমিতে পানি না পেয়ে ধাঁনের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ বন্ধ থাকে, এতে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি দ্রুত সেচ লাইনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সেচযন্ত্রের মালিকরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। সেচ মালিক মোঃ আব্দুল গণি মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালানো সম্ভব হয় না। এতে কৃষকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পেলে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ হালুয়াঘাট জোনাল অফিসের এজিএম (ও এন্ড এম) মোহতাসিম বিল্লাহ বলেন, হালুয়াঘাট উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ মেগাওয়াট। এ কারণে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং চলছে এবং স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের জনআক্রোশের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বোরো মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনের জন্য হালুয়াঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই সময়ে সেচ ব্যাহত হলে ফসলের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূর খান জানান, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সেচ খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বোরো মৌসুমের শুরুতেই বিদ্যুৎ সংকট হালুয়াঘাটের কৃষি উৎপাদনের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কৃষক ও স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।