
X
“আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, রাজনীতি করি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে”—এই প্রত্যয়ে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি আধুনিক ও মানবিক জনপদে রূপান্তরের দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও গন-অধিকার জোটের হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (ধানের শীষ প্রতীক) পদপ্রার্থী আবু মনসুর ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বানিয়াচং উপজেলার কামাল খানীস্থ হাসান মঞ্জিলে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে যে উন্নয়ন কাজ হবে তা হবে টেকসই, মজবুত ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপযোগী। উন্নয়ন মানে কেবল ইট–সিমেন্ট নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের মুখে হাসি ফেরানো।”
ডা. জীবন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আর কোনো অবহেলা চলবে না। আধুনিক হাসপাতাল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পর্যাপ্ত ওষুধ ও জরুরি সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুখস্থ নির্ভরতা থেকে বের করে এনে আনন্দময়, নৈতিকতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তর করা হবে—যাতে শিক্ষার্থীরা মানবিক ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তা আর কাদা-পানির দুর্ভোগ থেকে মানুষকে মুক্ত করা হবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই হবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।”
কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, “এই দেশ কৃষকের ঘামে ভেজা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ন্যায্যমূল্য ও প্রকৃত কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিয়ে কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করা হবে। মৎস্য খাতেও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে।”
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. জীবন বলেন, নারীরা হবে উন্নয়নের মূল শক্তি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নারীদের স্বাবলম্বী করা হবে। একই সঙ্গে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “তরুণ সমাজকে মাদক ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।”
পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নদী, খাল, বিল ও জলাশয় খননের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। জলাবদ্ধতা দূর করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে।
ডা. জীবন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “ভিন্নমত দমন নয়, গণতন্ত্রই হবে আমাদের রাজনীতির ভিত্তি। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হবে কঠোরভাবে, আর নিরপরাধ মানুষ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হবে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড স্বাধীনভাবে পালন করবে।”
প্রেস কনফারেন্সে তিনি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসেন মারুফ, সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ারিশ উদ্দিন খান ও ফরহাদ হোসেন বকুল, উপজেলা জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল জলিল ইউসুফী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শেখ বশির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খালেদ মিয়াসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।