প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম (ভিজিট : ৭১)

X
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এক মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের উপর বেত্রাঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হককে (৫২) প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবির সহযোগিতায় অভিযুক্ত হুজুরকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার ধাওয়া মাঝিয়ান এলাকার তালিমুল কোরআন কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করা হয় এবং এর আগে ওই দিন রাত ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে নতুন কমিটি গঠনের পর শিক্ষকরা কমিটির পক্ষে ও বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত শিক্ষক তোজাম্মেল হক ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতেন। এর আগে আরবি শিক্ষক মাওলানা ফিরোজ হোসেনের নিয়ম অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন মাওলানা ফিরোজ হোসেন কয়েকজন ছাত্রকে উসকানি দিলে তারা ১০-১২ জন মিলে একের পর এক তোজাম্মেল হককে পড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিরক্ত হয়ে তোজাম্মেল হক মাদ্রাসার ৫-৬ জন ছাত্রকে বেত দিয়ে আঘাত করেন। পরে মাওলানা ফিরোজ হোসেন ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে ছাত্রদের অভিভাবকদের জানালে, তারা মাদ্রাসায় এসে উত্তেজিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক তোজাম্মেল হক মাদ্রাসার একটি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেন। মাদ্রাসার বাইরে একপর্যায়ে প্রায় ২০০-২৫০ জন উত্তেজিত জনতা শিক্ষককে বিচার করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।
এ বিষয়ে আরবি শিক্ষক মাওলানা ফিরোজ হোসেন জানান, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। আমার সামনে ঘটনা ঘটেছে। পরের দিন গনিত পরীক্ষা থাকায় এনিয়ে ছাত্ররা শিক্ষক তোজাম্মেল কে বিরক্ত করছিল। এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে ৫ / ৬ জনকে মারধর করে। তবে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে কিনা জানা নেই। এটা তাদের ব্যাপার এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। উপজেলার ইউএনও মহোদয়ের উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফবসার মিজ রুবিনা তানজিন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়েছে। এলাকার লোকজন বলাবলি করছিল অভিযুক্ত শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। এসময় শিশুদের কাউকে আমার সামনে আনা হয়নি তাই ওদের কি অবস্থা এটা জানা সম্ভব হয়নি। তবে শিশুদের বাবা-মা ছিলেন। আমরা তদন্ত করছি।