ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। তবে এবার নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় আগের মতো নির্বাচনী উৎসবের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে। পরিবেশ রক্ষার দিক থেকে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, ছাপাখানা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
নেত্রকোনা-৫ (১৬১) পূর্বধলা আসনে এবার তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ আবু তাহের তালুকদার, ১১ দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সহকারী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা নূরুল ইসলাম হাকীমি।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, নির্ধারিত সময়ে মাইকিং, কাপড়ের ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আগের নির্বাচনগুলোতে ইউনিয়নের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও ঘরে ঘরে প্রার্থীদের পোস্টারে ভরে উঠলেও এবার তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে।
পোস্টার না থাকায় নির্বাচনী পরিবেশ পরিষ্কার থাকছে বলে মত দিয়েছেন অনেক ভোটার। ঘাগড়া ইউনিয়নের মেঘশিমুল গ্রামের ভোটার মোখলেছুর রহমান বলেন, পোস্টার না থাকায় পরিবেশ সুন্দর রয়েছে, প্রার্থীদের মধ্যে পোস্টার লাগানোর প্রতিযোগিতাও নেই। এতে নির্বাচনী ব্যয়ও কিছুটা কমবে।
তবে ভিন্ন মত দিয়েছেন বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা গ্রামের ভোটার মো. আবুল কাশেম। তিনি বলেন, পোস্টার না থাকায় এবারের নির্বাচন কিছুটা প্রাণহীন লাগছে। পোস্টার থাকলে এলাকায় উৎসব উৎসব ভাব থাকত, যা এবার দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে পোস্টার নিষেধাজ্ঞায় হতাশ ছাপাখানা সংশ্লিষ্টরা। ময়মনসিংহের মোহনা প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী হাজী মাজহারুল ইসলাম খোকন বলেন, পোস্টার না থাকায় আমাদের মতো প্রিন্টিং প্রেসগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে। পোস্টার ছাপানো হলে দেশজুড়ে হাজারো শ্রমিক উপকৃত হতো। তিনি ব্যয় সাশ্রয়ের যুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, অনেক প্রার্থী তফসিল ঘোষণার আগেই চার রঙের পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার চালিয়েছেন, যা অতিরিক্ত ব্যয়েরই প্রমাণ।
পোস্টার নিষিদ্ধের বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, পোস্টার ছাপাতে বিপুল পরিমাণ কাগজ লাগে, যার কাঁচামাল হিসেবে গাছ কাটা হয়। পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন পোস্টারবিহীন প্রচারণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে উৎসবের আমেজ কিছুটা কমলেও নির্বাচন পরিচালনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।