
X
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-৪ আসনের হিজলা উপজেলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ভোটাধিকার প্রয়োগ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারি হিজলা টেকনিক্যাল কলেজ আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক লাল দাসসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মোট ৪০ জন প্রতিনিধি। হিজলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত এই প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারি হিজলা টেকনিক্যাল কলেজের আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর জাহিদুর ইসলাম (৪১ বীর) তিনি বলেন, “নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার যাতে শান্তিপূর্ণ, বাধাহীন ও নিরাপদ পরিবেশে প্রতিটি নাগরিক প্রয়োগ করতে পারেন, এটি নিশ্চিত করা আমাদের আইনি ও পেশাগত দায়িত্ব। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ রক্ষা করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক শক্তি সংখ্যালঘু ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অবৈধ প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে।”
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের সম্প্রদায়ের উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, অতীতের অভিজ্ঞতার তুলনায় এবার নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রস্তুতি আরও সুসংগঠিত বলেই মনে হচ্ছে।
এছাড়া সংখ্যালঘু প্রতিনিধি দল এলাকাভিত্তিক চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জনমনে থাকা আশঙ্কা ও সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকবে এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নির্ভয়ে ভোট প্রদান করতে পারবেন।
মতবিনিময় সভার শেষে ক্যাম্প কমান্ডার সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন এবং মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনী, র্যাব, পুলিশ এবং আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
সভা শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিরা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ভোটারদের সচেতন ও উৎসাহিত করতে একযোগে কাজ করার আশ্বাস দেন।