মিঠাপুকুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত

মিঠাপুকুর প্রতিনিধি

সারাবাংলা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নে গ্রাম্য সালিশের জেরে প্রতিপক্ষের মারধরে নুরুজ্জামান নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লিলি

2026-02-07T20:38:34+00:00
2026-02-07T20:38:34+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
মিঠাপুকুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত
মিঠাপুকুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম   (ভিজিট : ৪২৬)
X

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নে গ্রাম্য সালিশের জেরে প্রতিপক্ষের মারধরে নুরুজ্জামান নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লিলি বেগম ও রাহিমা বেগমের মধ্যকার তুচ্ছ ঝগড়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিচারে হামলার শিকার হন ওই যুবক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নুরুজ্জামানের মা লিলি বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মোছন আলীর স্ত্রী রাহিমা বেগমের (৪০) কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে পরের দিন ৬ ফেব্রুয়ারি তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে প্রতিবেশী মহুবারের উঠানে বিচার ডাকেন রাহিমা বেগম।

​অভিযোগ উঠেছে, বিচারের নেতৃত্ব দেওয়া ইকবালপুর গ্রামের ফাকরুল, রবিউল ও সাইদুল লিলি বেগমকে সালিশে আসার জন্য চাপ দিতে থাকেন। লিলি বেগমের সালিশে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় রবিউল, সাইদুল ও আলামিন তাকে শাসাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লিলি বেগম বিচারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে রাহিমা বেগমের মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম, রাহিমা এবং তার দুই বোন আরজিনা ও রনজি বেগম লিলি বেগমকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন।

​এ সময় মাকে বাঁচাতে ছেলে নুরুজ্জামান এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে নুরুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় লিলি বেগম বাড়িতে ফিরে আসতে চাইলেও সালিশদার ফাকরুল, রবিউল ও সাইদুল জোরজবরদস্তি করে তাকে বিচারে বসিয়ে একটি লোক দেখানো মীমাংসা সম্পন্ন করেন।

​নুরুজ্জামানের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ভ্যানযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার পর নুরুজ্জামানের স্ত্রী ছালমা বেগম স্থানীয় কথিত বিচারক ও টাউটদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন। কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, এই সালিশের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে কিছুই জানানো হয়নি। কিছু টাউট প্রকৃতির লোক নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।

​মিঠাপুকুর থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy