
X
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে প্রচার-প্রচারণা।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রামগঞ্জ, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, উঠান বৈঠক ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পুরো আসনজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ। এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের মতে, মূল লড়াই গড়ে উঠেছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক আড্ডা সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই দুই প্রতীক।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাহালু উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৮ পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪১ জন, নারী ভোটার: ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৯ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ৮ জন বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধানের শীষে আশাবাদী মোশারফ হোসেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, বগুড়া-৪ আসনের মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির রাজনীতিতে আস্থা রাখে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আমি ২০১৮ সালে কাহালু নন্দীগ্রাম থেকে বিপুল ভোটে ধানের শীষ নিয়ে বিজয় অর্জন করেছিলাম। রাস্তাঘাট স্কুল কলেজ মাদ্রাসা থেকে শুরু করে সবখানি আমার উন্নয়নের ছোঁয়া লেগে আছে। আমি নির্বাচিত হলে এবার কাহালু ও নন্দীগ্রামকে আধুনিক ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করবো। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই হবে আমার অগ্রাধিকার। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, জনগণ পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।
দাঁড়িপাল্লায় নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, মানুষ সততা ও ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব চায়। সেই প্রত্যাশা থেকেই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন বিষয়ে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে গুণগত পরিবর্তন আনাই আমার লক্ষ্য। জনগণের আমানত হিসেবে সংসদে গিয়ে এলাকার প্রতিটি সমস্যা তুলে ধরবো। তার মতে, সাধারণ মানুষ বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে দাঁড়িপাল্লাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ইদ্রিস আলী (হাতপাখা) বলেন, তিনি ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচন করছেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক (লাঙ্গল) জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন। তবে মাঠপর্যায়ে তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ভোটার।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রার্থীরা যেনো সমান সুযোগে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা কঠোরভাবে নজর রাখছি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা যেনো নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের একটাই প্রত্যাশা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তারা বলছেন, ভোটের পরিবেশ ঠিক থাকলে তারা স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন। সব মিলিয়ে বগুড়া-৪ আসনে এবারের নির্বাচন পরিণত হয়েছে এক হাড্ডাহাড্ডি ও মর্যাদার লড়াইয়ে। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বিজয়ের মুকুট সেই অপেক্ষায় এখন পুরো কাহালু-নন্দীগ্রাম।