
X
ছবি : প্রতিনিধি
হাটহাজারীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো দরজা, জানালা, লোহার রডসহ অন্যান্য মালামাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে মালামাল নেওয়ার সময় ওই প্রতিষ্ঠানের সুইপার পদের বলরামসহ কয়েকজন শ্রমিক ধরা পড়লেও পালিয়ে যায় বলরাম। শুক্রবার রাত দশটার দিকে ভ্যানভর্তি জানালা, চেয়ার নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে ধরা পড়েন তাঁরা।
জানা যায়, সম্প্রতি হাসপাতালের দোতলাসহ বেশ কিছু রুমের মেরামত করা হয়। মেরামত শেষে জানালাসহ পুরাতন মালামাল সরকারি আইন অনুযায়ী নিলাম কিংবা ডিসপোজালে কমিটি গঠন শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার নিয়ম থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে স্থানীয় একটি ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মালামালসহ কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পান এবং মালামালসহ ভ্যানগাড়ি আটক করেন। সাংবাদিকদের দেখেই সুইপার বলরাম দ্রুত হাসপাতালের কুকার রুমে ডুকে পড়েন। এসময় জানতে সাংবাদিকরা ভেতরে যেতে চাইলে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেন তিনি। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী জানান, মালামালগুলো মন ১০০ টাকা করে কিনে নিয়েছেন।
টেন্ডার কিংবা কোন কাগজপত্র করা হয়নি। গোপন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার থেকে ভ্যান গাড়ি করে বিক্রিত মালামাল বের করা হয়। বুধ ও বৃহস্পতিবার নিরাপদে বের করলেও স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় পরদিন ধরা পড়ে। জানতে তাৎক্ষণিক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সোহানিয়া আক্তার বিল্লাহ'র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন বলে জানান। তবে সাংবাদিক দেখে বলরামের পালানোর কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
জানতে চাইলে শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, সরকারি আইন অনুযায়ী মালামাল পরিত্যক্ত ঘোষণা করে মালামালগুলো বিক্রি করা হয়েছে। মালামাল বিক্রির আগে ইউএনও কিংবা তার প্রতিনিধিসহ কমিটি গঠনের নিয়মনুযায়ী কমিটি গঠন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি হয়েছে বলে জানান।
তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ব্যস্ততার কারণে তিনি কিংবা কোন প্রতিনিধি উপস্থিত হতে পারেন নি। এসময় শৈবাল সেন নামে অফিস সহকারী প্রমান হিসেবে চলতি মাসের ৩ তারিখের ইউএনও বরাবর একটি আবেদন দেখালেও তাতে ইউএনও কার্যালয়ের গ্রহণের সাক্ষর ছিলনা রাতের আঁধারে এবং সুইপার পদের বলরামের উপস্থিতি এবং পালানোর বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে জানান। মালামাল কোন কর্মকর্তা বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রশ্নে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও নাম বলেন নি।
এদিকে ইউএনও বরাবর আবেদন কপির বিষয়ে কার্যালয়ের ডেস্ক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল খায়ের এ ধরনের আবেদন পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিবেদককে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। সরকারিবিধি ব্যতী রেখে মালামাল এভাবে বিক্রি করা যায় না। বিষয়টি তিনি অবশ্যই খতিয়ে দেখবেন।
জানতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বির মুঠোফোনে বলেন, মালামালগুলোর বিষয়ে বিধিমতে নিলামে বিক্রির নির্দেশনা আমি দিয়ে এসেছিলাম। তাহলে এভাবে কেন। বিষয়টি দেখা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একইভাবে কিছু অকেজো মালামাল বিক্রি করে। এনিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিক্রিত মালামাল ফেরৎ নিয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তৎ সময়েও সুইপার বলরাম প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।