
X
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজে সরগরম গোটা দেশ। গ্রামের সংসদখ্যাত চা-দোকানগুলোতে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলছে রাজনৈতিক আড্ডা। কে জিতবে আসন্ন নির্বাচনে, কারা গঠন করবে সরকার এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। কেউ বলছেন, যত দিন যাচ্ছে ধানের শীষের অবস্থান শক্ত হচ্ছে, আবার কেউ বলছেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দাঁড়িপাল্লাও চমক দেখাতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বইছে প্রচারণার শেষ হাওয়া। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নদীভাঙনে ক্ষতবিক্ষত এই জনপদে শেষ মুহূর্তে চর ও বীর এই দুই ভাগে বিভক্ত ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া প্রার্থীরা। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে এক সময়ের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। তবে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনও গণভোটের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে তেমন অবগত নন।
একদিকে মাঠে রয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে সুলতান মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেছ খান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত ইসলামপুর আসনে রয়েছে একটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬২৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।
গত ১২টি সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিএনপি এই আসনে দুইবার জয়ী হয় ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদি নির্বাচনে এবং ২০০১ সালে, যখন সুলতান মাহমুদ বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ গোছানো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসনটিকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে জয় নিয়ে দুই পক্ষই শতভাগ আশাবাদী।
যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের ইন্দুলামারী গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, “ভোটের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। আমাদের মূল দাবি উন্নয়ন আর নদীভাঙন থেকে রক্ষা।”
ইসলামপুরের প্রধান সমস্যা বন্যা ও নদীভাঙন। দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থী শিহাব আলী বলেন, “চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এমন একজন প্রতিনিধির অপেক্ষায় আছেন, যিনি দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলোর বাস্তব সমাধান করবেন।”
নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, “বিএনপি সবসময়ই এই এলাকায় শক্ত অবস্থানে ছিল। এবার তরুণরা ধানের শীষের পক্ষে। আমরা আগেও উন্নয়ন করেছি, ভবিষ্যতেও করব। সবাই ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ বিজয় শতভাগ নিশ্চিত।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. সামিউল হক ফারুকী বলেন, “তরুণ ও নারী ভোটাররা এবার জামায়াতকে বেছে নিয়েছে। আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই। এ কারণে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হবো।”
সব মিলিয়ে ইসলামপুরের নির্বাচনী মাঠে চর ও বীরের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নির্ভর করছে নদীভাঙনে জর্জরিত এই জনপদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিশ্রুতির ওপর।