প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম (ভিজিট : ১৪২)

X
সংবাদ সম্মেলনে বরগুনা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-২ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে বিনষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. সুলতাল আহমদ।
জনসভায় বাধা, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের মন্থরতা ও উদাসীনতার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে বরগুনা জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন বরগুনা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ ।
লিখিত অভিযোগ তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৯ ফেব্রæয়ারি বরগুনা-২ আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে পাথরঘাটা উপজেলা শহরের কেএম লতিফ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম দেখে বিরোধী পক্ষ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি ও তার নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে সভাগামী সাধারণ জনগণকে বাধা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. সুলতাল আহমদ অভিযোগ করে বলেন, পাথরঘাটা পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টÑব্রীজের গোড়া, ফেরিঘাট, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও সড়ক মোড়ে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু গুরুতর আহত হন। পথিমধ্যে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সাংবাদিকও বাধার মুখে পড়েন। হামলাকারীরা একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে, পাঁচটির বেশি মূল্যবান মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত ভাড়াকৃত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এর মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আরো অভিযোগে বলেন,ঘটনার পরপরই পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জনসভা কার্যত বিঘিœত হয়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পরদিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে ধানের শীষের নেতাকর্মীরা।মঙ্গলবার সকালে কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামে ধানের শীষের কর্মীরা মিছিল বের করে। একই দিনে সদর ইউনিয়নের পদ্মা গুচ্ছ গ্রামে ধানের শীষের প্রার্থী নিজে উপস্থিত থেকে সভার নামে প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।মঙ্গলবার সকাল থেকেই পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও গ্রামে গিয়ে বিরোধী ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানী হরের খাল ব্রিজের ওপর জামায়াত কর্মী মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। প্রশাসন যদি অবিলম্বে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বরগুনা-২ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড শতভাগ ধ্বংস হয়ে যাবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং অফিসার তাছলিমা আক্তার বলেন,আমরা এই ঘটনায় মামলা নিয়েছি, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ সঠিক না।