বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মানিকারচর ইউনিয়নের মাতবরকান্দি গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে রুবেল শিকদার গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। রুবেলের মৃত্যুর সময় তার ১৪ ও ৭ বছর বয়সী দুটি শিশু সন্তান ছিল।
মানববন্ধনে মোখলেছুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম থাকলেও রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। চিকিৎসকরা রোগী দেখার বদলে কর্মচারীদের কাজে লাগাচ্ছেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে পাঠাতে বাধ্য করা হয়।”
আরেক বক্তা দিদার হোসেন বলেন, “প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়াই রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হলো। এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
মানববন্ধনে উপস্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
● অবহেলায় দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
● হাসপাতালেই সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিশ্চিত করা।
● মুমূর্ষু রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তারপর রেফার করা।
● চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মান উন্নয়ন।
● ননারী রোগীর জন্য সার্বক্ষণিক গাইনি চিকিৎসক।
● সরকারি ওষুধ সঠিকভাবে প্রদান।
● রোগীর সঙ্গে মানবিক ও পেশাদার আচরণ।
● সার্বক্ষণিক এমবিবিএস চিকিৎসক উপস্থিতি।
● সেবার মান তদারকিতে কার্যকর মনিটরিং কমিটি।
বিক্ষোভকারীরা হুশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়মা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।