
X
সংগৃহীত ছবি
ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার ভোরে একাধিক ভারী হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে তারা যুদ্ধের ধাপে প্রবেশ করেছে এবং ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার জানিয়েছে, একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আসা ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে লেবানন জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আপাতত তিনি ইরানে মার্কিন স্থল সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন না। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িত থাকতে হতে পারে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। ট্রাম্প পরে খামেনির ছেলে মোজতোবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে তাকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার ভোরে ইরানি গণমাধ্যম রাজধানীতে তীব্র বিস্ফোরণের খবর দেয়, ঠিক তার কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল তারা শহরের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক প্রধানও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ এখন পরবর্তী ধাপে যাচ্ছে এবং তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী টে হেগসেথ ঘোষণা করেন, ইরান ও তেহরানের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ শিগগিরই আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে।
এর জবাবে ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা তেল আবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে মধ্য ইসরায়েলের একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়।
এএফপি সাংবাদিকরা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তেল আবিবে পরপর দুই দফা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময় উত্তরের আকাশেও রকেটের আলোর রেখা দেখা গেছে।
এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইসরায়েলের প্রতিবেশী লেবাননেও। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর ইসরায়েল লেবাননে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের সতর্কবার্তার পর হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
বহু বাস্তুচ্যুত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বৈরুতের সমুদ্রসৈকতে। তাদেরই একজন ৬১ বছর বয়সী ইউসুফ বলেন, আপনি বাঁচবেন কি না, সেটা এখন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। কেন এই যুদ্ধ?
ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের মাত্র প্রায় ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
রাজধানী তেহরানে কিছু জায়গায় স্বাভাবিক জীবনের আভাস দেখা গেলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি বেড়েছে। স্থানীয় এক প্রকৌশলী জানান, নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় টহল দিচ্ছে, মানুষের ফোন পরীক্ষা করছে এবং অনেককে হয়রানি করছে।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এর প্রভাব বাড়ছে এবং নতুন সংঘাতের আশঙ্কাও জোরদার হচ্ছে।