প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম (ভিজিট : ৮৫)

X
গাংনীতে জ্বালানি তেল মজুদের হিড়িক
ইজরায়েল ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে মেহেরপুরের গাংনীতে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের অজুহাতে স্থানীয় বাজারে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুদের হিড়িক পড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি। অনেককেই ড্রাম ভরে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদার তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গাংনীর মালসাদহ হোসেন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিতে আসা কৃষক ইব্রাহিম জানান, টেলিভিশনের খবরে যুদ্ধের খবর জানতে পান। এতে তেল সংকট দেখা দিতে পারে ভেবেই তিনি তেল নিতে এসেছেন। সামনে সেচ মৌসুম, তেল না পেলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগেভাগেই কয়েক ড্রাম ডিজেল নিয়ে রাখবেন তিনি।
গোপালনগর হানিফ ফিলিং স্টেশনে এসেছেন হেমায়েতপুর থেকে আব্দুর রশিদ। ছেলে রহিমকে সাথে নিয়ে এসেছেন মোটর সাইকেলে পেট্রল নিতে। গতকাল ও পৌরশু তেল নিয়ে গেছেন। এ পাম্পে আজ শুক্রবার থেকে দু’শো টাকার বেশি কোন তেলই দেয়া হচ্ছে না।তাই দুটি মোটর সাইকেল এনেছেন।তিনি ২০ লিটার তেল মজুদ করবেন বলে জানান। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই পাম্প মালিক দু’শো টাকার বেশি তেল দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কর্মচারীরা।
এদিকে, খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত করে তেল বিক্রির দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তেল সংকটের অজুহাতে হেমায়েতপুর বাজারের কয়েকটি মুদি দোকানী অতিরিক্ত মূল্যে পেট্রল বিক্রি করছেন।প্রতি লিটার পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। ক্ষেত্র বিশেষ ১৫০ টাকাও নেয়া হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও এখন অবৈধভাবে ড্রামজাত করে তেল মজুদ করা হচ্ছে। এতে বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪-এর তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক চাহিদার বিষয়ে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানান, সরবরাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনছে। সবাইকে বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আগেই ব্যাবসায়িদের আগেই চাষিরা তেল মজুদের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির জানান, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ দেশে রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। অবৈধভাবে তেল মজুদ বা নির্ধারিত দামের বেশি রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।