প্রকাশ: রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম (ভিজিট : ৮৫)

X
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ওই অঞ্চলে কর্মরত ও সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৯০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে এসব দেশে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। গত বছর একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে সৌদি আরবে, যেখানে মোট বিদেশগামী কর্মীর প্রায় ৬৭ শতাংশই গেছেন। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া এবং অনেক কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিবাসন বিশ্লেষক আসিফ মুনির বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দুই দিক থেকেই পড়তে পারে। একদিকে যারা নতুন করে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে যারা ইতোমধ্যে সেখানে কর্মরত, তাদের চাকরি ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শ্রম ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অনেক কর্মী চাকরি হারাতে পারেন এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত অনেক কর্মীর যাত্রাও বিলম্বিত হতে পারে, যা অভিবাসন খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত কর্মীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেসব কর্মী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন, তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে সরকার। পাশাপাশি যেসব কর্মীর ভিসা বা ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।