
X
ডিজিটাল কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
বর্তমান সরকারের প্রবাসীবান্ধব সেবা কার্যক্রমকে আরও সহজ, আধুনিক ও গতিশীল করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড কিউ সিরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’। প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন ব্যবস্থার ফলে কনস্যুলার সেবায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার ভোগান্তি কমবে, একই সঙ্গে সেবার গতি, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করছে কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান ফিতা কেটে আধুনিক এই ডিজিটাল সেবাব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে কনস্যুলেটে বিভিন্ন সেবা নিতে এসে মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো প্রবাসীদের। এতে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ত দুর্ভোগও। নতুন ডিজিটাল কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সেই চিত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
নতুন ব্যবস্থায় কনস্যুলেটে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা সেবাগ্রহীতার প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল টোকেন নম্বর প্রদান করছেন। এরপর তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়েটিং রুমে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে নিজেদের সিরিয়ালের অপেক্ষা করছেন। ওয়েটিং রুমে স্থাপিত বড় ডিজিটাল ডিসপ্লেতে টোকেন নম্বর প্রদর্শনের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ভয়েস অ্যানাউন্সমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোন সেবাগ্রহীতাকে কোন কাউন্টার বা কক্ষে যেতে হবে।
বর্তমানে এই আধুনিক ব্যবস্থার আওতায় ১৪টি ভিন্ন ক্যাটাগরির কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে সেবাপ্রার্থীদের অপ্রয়োজনীয় ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই সঙ্গে কনস্যুলেটের অভ্যন্তরে সেবাপ্রদান কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয়েছে।
নতুন এই সেবাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কনস্যুলেটে সেবা নিতে আসা প্রবাসীরা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে এখন আরামদায়ক পরিবেশে অপেক্ষা করেই নির্ধারিত সময়ে দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে যেমন মূল্যবান সময় সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি কর্মস্থলেও দ্রুত ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করে স্বল্পতম সময়ে স্বচ্ছ, মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানই তাদের মূল লক্ষ্য। ‘ইন্টিগ্রেটেড কিউ সিরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর ফলে কনস্যুলেটের সার্বিক সেবাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের সময় ও শ্রমের মূল্য বিবেচনায় কনস্যুলেটের এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা। তাদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল ও প্রবাসীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য বাংলাদেশ মিশনেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের আধুনিক সেবাব্যবস্থা চালু হবে। এতে কনস্যুলার সেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে এবং প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবামূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।