প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম (ভিজিট : ১৪৬)

X
ছবি : প্রতিনিধি
রাতের আকাশজুড়ে রঙের ঝলকানি। জলের বুকে সারিবদ্ধ শত শত সুসজ্জিত নৌকা। আর হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর চারপাশ।
আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বর্ণিল আতশবাজির প্রতিফলনে নীল জলরাশিও যেন রঙিন হয়ে ওঠে। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের মধ্য দিয়েই ইতালির ঐতিহাসিক নগরী ভেনিসে উদযাপিত হচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন ‘ফেস্তা দেল রেদেন্তোরে’।
প্রতি বছর জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এই উৎসব ভেনিসবাসীর কাছে শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবেগের এক অনন্য মিলনমেলা।
এই উৎসবের সূচনা ষোড়শ শতাব্দীর এক করুণ ইতিহাসকে ঘিরে। ১৫৭৫ থেকে ১৫৭৭ সালের মধ্যে প্লেগ মহামারিতে ভেনিসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ১৫৭৭ সালে শুরু হয় ‘ফেস্তা দেল রেদেন্তোরে’। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই জুদেক্কা দ্বীপে নির্মিত হয় ঐতিহাসিক রেদেন্তোরে গির্জা, যা আজও এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজনগুলোর একটি হলো জুদেক্কা খালের ওপর নির্মিত ৩৩০ মিটার দীর্ঘ অস্থায়ী ভাসমান সেতু। এই সেতু দিয়ে মূল ভেনিস থেকে হাজার হাজার মানুষ হেঁটে গির্জায় যান প্রার্থনা করতে। কয়েক দিনের জন্য নির্মিত এই সেতু ভেনিসের অন্যতম দর্শনীয় আকর্ষণে পরিণত হয়।
শনিবার রাতে প্রায় ৪৫ মিনিটব্যাপী চোখধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী উপভোগ করেন হাজারো দর্শনার্থী। আর রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী রেগাত্তা—ভেনিসের ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা, যা উৎসবকে এনে দেয় ভিন্নমাত্রা।
উৎসব উপলক্ষে স্থানীয়রা উপভোগ করেন ভেনিসের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার, বিশেষ করে সার্ডিন মাছের বিশেষ পদ এবং মৌসুমি তরমুজ। দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে খালনির্ভর এই ঐতিহাসিক শহর।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসা ‘ফেস্তা দেল রেদেন্তোরে’ আজও ভেনিসের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।