
X
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশি উদ্যোক্তা হারুনুর রশিদের প্রতিষ্ঠিত ‘রামিনস ফার্ম’ অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলীয় লেপিংটন এলাকায় প্রবাসী দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির কাছে দেশি শাকসবজির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কয়েক একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই খামারে বাংলাদেশে প্রচলিত নানা ধরনের শাকসবজি ও ফল চাষ করা হচ্ছে। ফলে সিডনিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি, ভারতীয় ও নেপালি পরিবারগুলো সহজেই তাদের পরিচিত স্বাদের তাজা সবজি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
সিডনির লেপিংটন এলাকার ইস্টউড রোডে অবস্থিত এই খামারটিতে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হচ্ছে।
মৌসুমভেদে এখানে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করা হয় এবং সেগুলো সরাসরি খামার থেকে বিক্রি করা হয়। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন দোকান ও কমিউনিটি মার্কেটেও এসব সবজি সরবরাহ করা হয়।
খামারটিতে চাষ হওয়া সবজির তালিকা বেশ সমৃদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে লাউ, ঝিঙা, কচু, কচুশাক, বরবটি, শসা, ঢেঁড়স, পেঁপে, লেবু, বেগুন, মরিচ, টমেটো, আলু, গাজর, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, মূলা শাক, লালশাক, পালং শাক, বিভিন্ন ধরনের বিনস, কুমড়া, জুকিনি এবং অন্যান্য মৌসুমি সবজি।
এছাড়া কিছু মৌসুমে বিভিন্ন ফলও উৎপাদন করা হয়। দক্ষিণ এশীয় খাদ্যাভ্যাসে ব্যবহৃত পরিচিত অনেক শাকসবজিই এই খামারে উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়, যাতে প্রবাসীরা সহজে নিজেদের পরিচিত রান্নার উপকরণ পেতে পারেন।
বিশেষভাবে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় রান্নার কথা মাথায় রেখে লাউ, বরবটি, ঢেঁড়স, কচু, কচুশাক, লালশাকসহ বিভিন্ন শাকজাতীয় সবজির চাষ এখানে গুরুত্ব দিয়ে করা হয়। ফলে সিডনিতে বসবাসকারী প্রবাসীরা অনেক সময় সরাসরি খামারে গিয়ে তাজা সবজি কিনে নিয়ে যান।
খামারের প্রতিষ্ঠাতা হারুনুর রশিদ জানান, প্রবাসে এসে তিনি লক্ষ্য করেন যে দক্ষিণ এশীয় অনেক সবজি সহজে পাওয়া যায় না। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কৃষি উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। “প্রবাসে বসবাসকারী অনেকেই দেশের পরিচিত খাবার খেতে চান। কিন্তু অনেক সময় প্রয়োজনীয় সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই প্রয়োজনের কথা ভেবেই আমরা এখানে দেশি ধরনের বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করার চেষ্টা করছি, যাতে মানুষ সহজেই তাজা সবজি পেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে ছোট পরিসরে চাষাবাদ শুরু করা হলেও ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়ছে। নতুন নতুন ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে মানিয়ে যায়, এমন দেশি সবজি উৎপাদনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রবাসে কৃষিভিত্তিক এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কমিউনিটিতে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেক প্রবাসী পরিবার নিয়মিতভাবে এই খামার থেকে সবজি সংগ্রহ করেন। অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ প্রবাসে বসবাসকারী নতুন প্রজন্মের কাছে দেশি খাবার ও কৃষি সংস্কৃতির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দেশি শাকসবজি চাষ করে হারুনুর রশিদ দেখিয়ে দিয়েছেন যে পরিকল্পনা, শ্রম এবং উদ্যোগ থাকলে প্রবাসেও কৃষি খাতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তার এই উদ্যোগ এখন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।