নারায়ণগঞ্জে মাদকের অভিযানে গিয়ে রেলওয়ে পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল মোহাম্মদ আরিফকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় পুলিশ অফিসারসহ দুইজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, দুইজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করার কারণে জনতা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে মারধর করেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) বিকালে শহরের গলাচিপা-উকিলপাড়া রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা মিজান বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এসআই ও টি-শার্ট পরা কনস্টেবলকে কয়েকজন যুবক মারধর করছেন। ভিডিওতে নিজেকে হোসিয়ারি কারখানার কর্মী পরিচয় দিয়ে রমজান নামের এক যুবক বলেন, তাদের রাস্তায় আটক করে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছিল।
ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন: গলাচিপা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অনিক (২৮) ও হারুন শেখের ছেলে মিস্টার (২৬)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ দুইজনকে সিএনজিতে তুলে যাচ্ছিল, এ সময় ধস্তাধস্তি শুরু হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশকে সিএনজি থেকে নামিয়ে পাশের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ ও জনতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে অভিযোগ করে পুলিশকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে এসআই মিজান ও কনস্টেবল আরিফ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন জানান, এসআই মিজান মাদকের অভিযানে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন এবং বিস্তারিত তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “রেললাইনে নিয়মিত টহলে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তখন গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের মারধর করেন। জিআরপি পুলিশের কাছে অস্ত্র নেই, তাই তারা প্রতিরোধ করতে পারেননি। থানা পুলিশ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”