ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অস্থির হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি তেলের বাজার। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। এই সংকট মোকাবিলায় মজুত করা তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে। এতে তেলের বাজার কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
টালমাটাল তেলের বাজারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলের চালান বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে এরই মধ্যে। এ খবরে তেলের দাম ওঠানামা করছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে ফের।
বিবিসি লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ায় ৭৬২ মিলিয়ন লিটার পেট্রোল ও ডিজেল আজ থেকে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করবে। আশা করা হচ্ছে এতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আকাশছোঁয়া দামের ওপর কিছুটা নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করবে।
অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি বৃহত্তম শহরে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫০ সেন্ট বেড়েছে এবং দৈনিক গড় দাম লিটার প্রতি প্রায় ২.২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানকার ৩ হাজার পেট্রোল স্টেশনের মধ্যে ৩২টিতে পেট্রোলের পরিমাণ কমে এসেছে বা শেষ হয়ে গেছে।
সরকারের শুধু প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি কেনার আহ্বান সত্ত্বেও, স্থানীয়রা জ্বালানি মজুত করায় পেট্রোল স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এই নৌপথ দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, আপনাদের যতটুকু জ্বালানি প্রয়োজন, ততটুকুই নিন, এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়। কারণ ইরানে বোমা হামলার পর থেকে জ্বালানির চাহিদা দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এই নৌপথ দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরান এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছাতে দেবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রতিবাদে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।