
X
পূর্বধলায় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি
নেত্রকোণার পূর্বধলায় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বহু ঘরবাড়ী পুরুপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ভেঙ্গে গেছে অসংখ্য গাছপালা। শিলা বৃষ্টির কারনে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অনেকের ফসল তলিয়ে গেছে। আম গাছের মুকুল বিনষ্ট হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তিন দিনেও স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে গ্রাহকদের মাঝে।
জানা গেছে গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলায় হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে শিলা বৃষ্টি। মুহুর্তেই ব্যপক ক্ষতির মধ্যে পড়ে পুরো উপজেলা। গাছপালা ভেঙ্গে বাড়ী ঘরের উপরে পড়ায় অনেক বসত ঘড় ভেঙ্গে যায়। রাস্তায় চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ঝড়বৃষ্টির পর থেকে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঝড়ে, পূর্বধলা সদর, ঘাগড়া ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে বসতঘর, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে।
উপজেলা ঘাগড়া ইউনিয়নের বাইঞ্জা গ্রামের শফিকুল ইসলাম মৃধা, আবুল কালাম আকন্দ জানান ঝড়ের তাদের বসত ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ঘাগড়া ফয়জুল উলুম স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বারধার (বারহা) এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে জারিয়া লোকাল ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। পরে গাছ সরালে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঝড় শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমিতে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় শিলার আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে। আমের মুকুলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ঝড়ে বোরো ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যেসব ধানে শীষ বের হয়েছিল, সেগুলো শিলার আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারনে ফলনে প্রভাব পড়বে বলে তিনি জানান।” প্রবলবৃষ্টির পানি দ্রæত সরতে না পেরে ঘাগড়া ইউনিয়নের মৌদাম কান্দাপাড়া, মেঘশিমুল এলাকা, ধলামুলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ, জুরাম, কুনিয়া, হোগলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বোরো ফসল তলিয়ে ক্ষতির মধ্যে পড়ে। ঘাগড়া ইউনিয়নের বাইঞ্জা এলাকার কৃষক মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, “লিজ নিয়ে ১১২ শতক জমিতে ভুট্টা ও ১৪৮ শতক জমিতে শসা আবাদ করেছিলাম। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেব বুঝতে পারছি না। সরকারের সহায়তা দরকার।” ঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বৈদ্যুতি লাইনের। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অনেক খুঁটি ভেঙ্গে যায়, ট্রান্সফরমার মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে রমজান মাসে রান্নাবান্না, নামাজ আদায়, ইফতার ইত্যাদিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রাহকদের। ঝড়ের তিনদিন পরও ও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
পল্লীবিদ্যুত সমিতির পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী শাহীনুর আলম মৃধা জানান, গত শনিবার ঝড় বৃষ্টিতে পূর্বধলায় বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে ৭/৮টি ট্রান্সফরমার ক্ষত্রিগ্রস্ত হয়। ১৫ থেকে ২০টির খুটি ভেঙ্গে পড়ে ও ২০ থেকে ২৫টি খুটি হেলে পড়ে। অনেক স্থানে তার ছিড়ে যায়। ঝড়ের পর থেকেই লাইন সচল করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে বেশিরভাগ এলাকায় সচল করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামীকালের মধ্যেই পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, পুরো উপজেলায় ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয় হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জোবায়ের হোসেন জানান, গতকালের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে পূর্বধলা উপজেলার প্রায় ২০ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধান, ভুট্টা, শসাসহ বিভিন্ন শাকসবজি জাতীয় ফসল রয়েছে। ফসলের ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাগণ কাজ করে যাচ্ছে।