প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম (ভিজিট : ৩০৮)

X
সংগৃহীত ছবি
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় শুরু হয়েছে কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণের প্রাথমিক কার্যক্রম।
ভোটের কালি শুকানোর আগেই কৃষকের কল্যাণে এমন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি প্রশংসার জোয়ার বইছে সর্বত্র।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ রমজান থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও ডাটা ইনপুট সম্পন্ন করা হয়। ঈদের ছুটি শেষ না হতেই ২৩, ২৪ ও ২৫ তারিখে উপজেলার ১নং বলদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিশেষ করে রাজাবাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ শুরু করেন।
এই উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে যেন নেমে এসেছে এক ভিন্ন আনন্দের আবহ। বিনামূল্যে বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পেয়ে অনেক কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে ঈদের হাসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন সুবিধা পেয়ে তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে এই আনন্দের মাঝেও উঠে এসেছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রহিমা বেগমের গল্পটি যেন তারই প্রতিচ্ছবি। তার স্বামী আব্দুস সালাম মিয়া, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, তিন মাস আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে প্যারালাইজড অবস্থায় শয্যাশায়ী। এমন পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে বাইরে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা ছিল প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এগিয়ে আসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রহিমা বেগমের আকুতি শুনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। পরে চিন্ময় নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা নিজেই তার বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাকাউন্ট খোলার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এই ছোট উদ্যোগই স্থানীয়দের মনে বড় দাগ কেটেছে। এমন মানবিক আচরণে অনেকের চোখে ভেসে উঠেছে কৃতজ্ঞতার অশ্রু। স্থানীয়দের ভাষায়, “এটাই প্রকৃত সেবা—যেখানে মানুষের প্রয়োজনই সবচেয়ে বড়।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষকদের জীবনে এনে দেবে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা এবং এক টুকরো স্বপ্ন।