প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম (ভিজিট : ২৬০)

X
প্রতীকী ছবি
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুল কাশেম (৪৫) নামে এক কৃষক দল নেতা নিহত হয়েছেন।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ৫নং কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কুল্লাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল কাশেম ওই গ্রামের লতিফ মন্ডলের ছেলে। তিনি কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুল্লাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের বকুল নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে সাইদুর রহমান বিটু একটি মন্তব্য করেন। ওই মন্তব্যের বিপরীতে লিমন হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক পাল্টা মন্তব্য করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে গ্রামের মাঝেরপাড়া এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন আব্দুল কাশেমের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা জড়িত। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বাবুল আক্তার। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এটি মূলত একটি পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটা হত্যাকাণ্ড। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আব্দুল গনি, নাজের আলী, আজিত মন্ডল, মাজিত মন্ডল ও লিমন হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম বিশেষ অভিযানে রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।