
X
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে দিবসটি পালন করা হয়। রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদের নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে অংশ নেন।
পরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে উপ-মিশন প্রধান শাহানাজ আক্তার রানু, শ্রম বিষয়ক পরামর্শদাতা মোহাম্মদ উল্লাহ খান, দূতালয় প্রধান তৌহিদ ইমাম এবং প্রথম সচিব (পাসপোর্ট) রুবাইয়া আফরোজ।
রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ তার বক্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ১২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশের মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে এবং নিজেদের কর্মের মাধ্যমে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ বিমানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মুদ্রিত ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
একইভাবে দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে দিবসটি উদযাপন করা হয়। ভোরে কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে কনস্যুলেট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শ্রম বিষয়ক পরামর্শদাতা ও দূতালয় প্রধান মো. আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা পর্বে দুবাই ও উত্তর আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি প্রবাসীদের দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিশেষে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত, প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।