মহাস্থানগড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সেতুবন্ধন

মাহফুজ মন্ডল, বগুড়া

সারাবাংলা

প্রাচীন পুণ্ড্রনগর মহাস্থানগড়ে স্থাপিত হতে পারে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ইঙ্গিতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে।

2026-03-28T13:01:51+00:00
2026-03-28T13:01:51+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
মহাস্থানগড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সেতুবন্ধন
মাহফুজ মন্ডল, বগুড়া
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:০১ পিএম   (ভিজিট : ৭৭৮)
প্রতীকী ছবি
X

প্রতীকী ছবি

আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস ও জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য বহনকারী প্রাচীন পুণ্ড্রনগর, যা আজকের মহাস্থানগড় নামে পরিচিত। সেই ঐতিহাসিক ভূমিতেই বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার এই বক্তব্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রাচীন ঐতিহ্য।


ঐতিহাসিক সূত্র মতে, পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুণ্ড্রনগর ছিল প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান নগরকেন্দ্র, যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান, ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল সুদীর্ঘ সময় ধরে। মৌর্য, গুপ্ত ও পাল আমলে এই অঞ্চল ছিল প্রশাসনিক ও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।


ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে, যেখানে দেশ-বিদেশের জ্ঞানপিপাসু মানুষ শিক্ষা অর্জনের জন্য আগমন করতেন। বিশেষ করে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের এই ঐতিহ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে তা অতীতের জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতাকে আধুনিক রূপ দেবে। একই সঙ্গে এটি দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।


এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের পাশে নয়মাইল জামালপুর এলাকায়। উন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং প্রস্তাবিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্টেশন থাকার কারণে ওই স্থানটি উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী মহাস্থানগড়কে বিবেচনায় আনা হলে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য সমন্বয় তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


মহাস্থানগড়ে জন্ম নেয়া প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আজমাঈন রিয়াদ বলেছেন, মহাস্থানগড়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এটি “হিস্টোরিক-এডুকেশনাল হাব” হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, যেখানে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, সংস্কৃতি এবং আধুনিক বিজ্ঞান সবকিছুর সমন্বয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।


এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, স্থান নির্বাচন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সবদিক বিবেচনা করে এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যকে ধারণ করে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে যা অতীতের গৌরব ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে এক সুতোয় গেঁথে দেবে।





  বিষয়:   বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  মহাস্থানগড়  পুণ্ড্রনগর  মীর শাহে আলম  শিক্ষা-পর্যটন হাব  বগুড়া সংবাদ। 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy