
X
সংগৃহীত ছবি
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে জ্বালানী তেল, এলপি’ গ্যাস, সয়াবিন তেল, মাছ-মংসের দামে ঝাঁঝসহ চরম সংকট দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন।
এমনিতেই, প্রতিদিনই সৈয়দপুরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানী তেল মিলছেনা। তাছাড়া, পাম্প মালিকসহ কর্মচারী ও গ্রাহকদের সাথে এনিয়ে বাক-বিতন্ডাসহ হাতা-হাতির ঘটনাও ঘটছে। তার ওপর আবার শুরু হয়েছে এলপি’ গ্যাসসহ সয়াবিন তেল, মাছ-মাংসের বাজারেও দামের ঝাঁঝ।
শনিবার (২৮ মার্চ) ঘুরে দেখা গেছে, একই চিত্র। পাম্পগুলোতে জ্বালানী তেল মিলছে না। অনেক পাম্প মালিক আবার পাম্প বন্ধ রেখেছেন। বাজারে ক্রয় করতে আসা অনেক গ্রাহকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এলপি’ গ্যাসের সংকটও দেখা দিয়েছে। বসুন্ধরাসহ ব্রান্ডের অন্যান্য গ্যাসের সিলিন্ডার না মিললেও যেগুলো মিলছে সেগুলোও ১৫শ’ ৮০ টাকা থেকে ১৬শ’ ৫০ টাকার নিচে মিলছে না। শহীদ তুলশীরাম সড়কের মমতাজ ষ্টোর নামে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে গেলে এরকম চিত্র দেখা গেছে।
শহরের খুচারা দোকানগুলোতে সয়াবিন তেল ২শ’ ৫ টাকা থেকে ২শ’ ১৫ টাকা করে সয়াবিন তেল মিললেও গ্রামের হাট-বাজারে সেই সয়াবিন তেল মিলছে ২শ’ ৩০ টাকার নিচে নয়।
একই অবস্থা দেখা দিয়েছে, মাছ ও মাংসের দামেও। শহরের নতুনবাবু পাড়ার কলিম মোড় ও বাজারের মাংসের দোকানগুলোতে গরুর মাংষ ৭৫০ থেকে ৮শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, ফাকিস্তানি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
মাছের দামও অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। বর্তমানে পাঙ্গাস মাছও বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ টাকা কেজির নিচে নয়। অন্যান্য যেমন রুই, কাতলা, ব্রিগেড মাছও সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব্জির বাজারে পটল, বেগুন, করলা, কায়তাসহ অন্যান্য সবজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে যা’ সহনীয় বলে ক্রেতারা মন্তব্য করছেন।
প্রয়োজনীয় জ্বালানী যেমন ডিজেল সংকটে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ দিতে যে বিড়ম্বনায় পড়েছেন তেমনি এলপি’ গ্যাসের সিলিন্ডার সংকট দাম বেশী হওয়ায় গ্যাসের চলায় রান্না করা পরিবারগুলো ও নিত্য-প্রয়োজনীয় সয়াবিন তেল ও মাছ-মাংসের বাজারে দামের ঝাঁঝ পড়ায় মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নি¤œ অঅয়ের মানুষজনসহ খেটে খাওয়া দিন-মজুরেরা ও ছোটো-ছোট চাকুরিজীবিরা।
এরকম অবস্থা হতে মুক্তি পেতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ অতি-সত্বর ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা আরো ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াবে বলে এলাকার সূধীমহল মত পোষন করছেন