প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ২:১১ পিএম (ভিজিট : ২২)

X
মুকসুদপুর উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নতুন তদারকি ব্যবস্থা চালু করেছে
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নতুন তদারকি ব্যবস্থা চালু করেছে।
রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রতিটি নির্ধারিত ফিলিং স্টেশনের জন্য একজন করে “ট্যাগ অফিসার” নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান শুভকে মুকসুদপুর ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্টেশনে উপস্থিত থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তার তদারকিতে ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মজুতদারি ও কালোবাজারি প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ট্যাগ অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ জানান, সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেটসহ মোটরসাইকেল আরোহীরা ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের অনুমোদিত স্লিপের ভিত্তিতে সেচের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ইতিবাচক নয় বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। তাদের দাবি, কৃষি অফিসের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও সেচ পাম্পের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল তারা পাচ্ছেন না। ফলে সেচনির্ভর জমিতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, দিনের বেলায় তেল সরবরাহ সীমিত রাখা হলেও রাতের বেলায় পরিবহন খাতে ব্যবহৃত যানবাহনে নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বৈষম্যমূলক সরবরাহ ব্যবস্থা কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমনকি খাদ্য সংকটের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর সমাধান এবং আরও জোরদার তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।