
X
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরার মোটরসাইকেল বাজারে। পেট্রোল ও অকটেনচালিত মোটরসাইকেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, বিপরীতে দ্রুত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পেই জ্বালানি সংকট অব্যাহত রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত জানালেও তা এখনো কার্যকর না হওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।
একই সঙ্গে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই সংক্রান্ত নির্দেশনাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। এর প্রভাব পড়েনি বিআরটিএ অফিসেও—ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়নি।
বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) উসমান সরওয়ার আলম জানান, চলতি মার্চ মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন এসেছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি। ঈদ ও ছুটির প্রভাব থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে বাইক কেনার প্রবণতা থাকে, কিন্তু বর্তমানে অর্থসংকটের কারণে চাহিদা কমেছে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি, কারণ আবেদনগুলো অনলাইনে সম্পন্ন হয়।
এদিকে বাজারে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে। শহরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত ‘ভেনাস অটোস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১০-১২টি পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল, মার্চে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩টিতে। তবে একই সময়ে মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টিই ছিল ব্যাটারিচালিত।
শোরুমটির ম্যানেজার আব্দুল মজিদ জানান, মোট বিক্রি বাড়লেও তেলচালিত বাইকের চাহিদা কমেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রেতারা এখন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন।
একই চিত্র পাওয়া গেছে শহরের চায়না বাংলা মোড়ের ‘ইকো মটরস’-এও। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের মজুদ প্রায় শেষ। বর্তমানে হাতে আছে মাত্র ১৫টি।
তিনি বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ৮-১০টি করে বিক্রি হতো, মার্চে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০-২৫টিতে। জ্বালানি সংকটই এই চাহিদা বৃদ্ধির মূল কারণ।
বিক্রেতারা জানান, অনেক ক্রেতা শোরুমে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। জ্বালানি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কাগজপত্র সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে বাজার কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে।
জেলায় বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে বাজার স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক কড়াকড়ি যুক্ত হওয়ায় পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।