
X
যুক্তরাজ্যে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের জাঁকজমকপূর্ণ কূটনৈতিক অভ্যর্থনা
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বার্মিংহামে উদ্যাপিত হলো বাংলাদেশের ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, বার্মিংহামের উদ্যোগে আয়োজিত এই কূটনৈতিক অভ্যর্থনা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে রাজা চার্লসের প্রতিনিধি লর্ড লেফটেন্যান্ট ডেরিক এন্ডারসন সিবিই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন পেরি বার এলাকার সংসদ সদস্য আইয়ুব খান, ওয়েস্ট ব্রোমউইচের এমপি সারাহ কুম্বেস, বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়র কাউন্সিলর জাফর ইকবাল, সলিহাল মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর এনেট ম্যাকের্জি, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার সাইমন ফোস্টারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রোমানিয়ার কনসাল জেনারেল মাহায়েলা সাভু, পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল ফাহাদ আমজাদ এবং ভারতের কনসাল জেনারেল ড. ভেঙ্কটাচালাম মুরুগান। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সহকারী হাইকমিশনার সুজন দেবনাথ স্বাগত বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি প্রধান অতিথিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হামিদকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল বাংলাদেশকে তুলে ধরে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, যা উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিক ও অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথি ডেরিক এন্ডারসন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকীতে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামগ্রিকভাবে প্রাণবন্ত পরিবেশ, আন্তরিকতা ও দেশাত্মবোধে ভরপুর এই আয়োজন প্রবাসে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।