রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমাতে আজ থেকে কঠোর অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মহানগরীর আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে এই অভিযান। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারিত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়; বরং সেসব সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে, যারা সড়কের ওপর স্থায়ী স্থাপনা বা রেস্টুরেন্টের কিচেন তৈরি করে জনপথ দখল করে রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বৈধ সীমার বাইরে ফুটপাত দখল করে ব্যবহার করছে, সেগুলো দখলমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকানগুলো তাদের কার্যক্রম ফুটপাত ও সড়কে সম্প্রসারণ করেছে। এতে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনেক ওয়ার্কশপ ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে চলাচল করছে, যা একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের দ্রুত মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনস্বার্থে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগরবাসীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করছে ডিএমপি।