প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৮ পিএম (ভিজিট : ৩৯০)

X
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) নগরের মাদারবাড়ি মৌজার মাঝিরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর খালের সংযোগস্থলে অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে জেটি। জেটিতে স্থাপন করা হয়েছে স্টিল পন্টুন, ক্রেন ও কনভেয়র বেল্ট। এতে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হয়ে জমে উঠছে পলি।
এছাড়া খালের সংযোগস্থলে জেটি নির্মাণ ও পলির কারণে পণ্যবাহী বোট চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। এ ব্যাপারে মো. ফেরদৌস ইউসুফ নামের ব্যক্তি ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট মেসার্স এস এস ট্রেডিংকে দায়ী করে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অভিযোগ দায়ের করেছেন অনুমোদিত ঘাট মালিক নেজাম উদ্দিন খান ও খালের লীজ গ্রহীতা মো. সরোয়ার আলম।
সরেজমিন তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অবৈধ ও বেআইনি জেটি অপসারণের নির্দেশ প্রদানের পরও দখলদাররা তা তোয়াক্কা না করে প্রতাপ খাটিয়ে এখনো অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বন্দর চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- ‘চট্টগ্রাম নগরীর মাদারবাড়ি মৌজার মাঝিরঘাট এলাকায় ১০০ ফুট নদীমুখ নেজাম উদ্দিন খানের নামে লাইসেন্সকৃত। নদীমুখের ভাড়া ও অন্যান্য পাওনাদি যথাযথভাবে পরিশোধ করে লাইসেন্স চুক্তির শর্তানুযায়ী নদীমুখ ভোগ দখল ও ব্যবহার করে যাচ্ছে। লাইসেন্সকৃত নদীমুখের পূর্ব পাশে মাঝিরঘাট খাল। খালের পূর্ব পাশে ইউসুফ মিয়া সওদাগরের নামে কাঠের জেটি লাইসেন্সভুক্ত ছিল। ইউসুফ মিয়া এস এস ট্রেডিং কর্পোরেশন নামের একটি কোম্পানীর কাছে তার ঘাটটি ভাড়া দেয় বলে জানা গেছে। এস এস ট্রেডিং নেজাম উদ্দিন খানের অনুমোদিত নদীমুখের অতিরিক্ত নদীমুখ দখল করে পশ্চিম দিকে এগিয়ে আনুমানিক ১২০ ফুট স্টিল পন্টুন জেটি নির্মাণ করে তাতে অবৈধ ভাবে ক্রেন ও কনভেয়র বেল্ট স্থাপন করে পাথর ও অন্যান্য মালামাল লোড আনলোডিং করছে। এতে খালের সিংহভাগ মুখ বন্ধ হয়ে যায়। চবক হইতে অনুমোদিত জেটিঘাটে মালামাল খালাস করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জাহাজে জাহাজে সংঘর্ষ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।’
উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনের আলোকে বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. ফেরদৌস ইউসুফ গং-এর অতিরিক্ত নদীমুখ দখল ও ভরাট এবং স্টীল পন্টুন জেটি নির্মান করে ক্রেন ও কনেভয়র বেল্ট স্থাপন করাকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের অথরাইজ বিভাগ থেকে অভিযুক্ত মো. ফেরদৌস ইউসুফকে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়- ‘আপনি/আপনারা কর্ণফুলী নদীর ডানতীরে মাদারবাড়ী মৌজাস্থ মাঝিরঘাট এলাকায় ইজারাকৃত জায়গার সম্মুখে জেটি নির্মাণ না করে প্রায় ৭০ ফুট পশ্চিম দিকে খান সাহের আব্দুল হাকিম মিয়া ওয়াকফ এস্টেট এর ইজারাকৃত জায়গার সামনে নির্মাণ করেছেন। উক্ত জেটি নির্মাণের ফলে মাঝিরঘাট খালের আংশিক মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং খালের ভিতরে লবণবাহী বোট আসা-যাওয়ার প্রতিবন্ধকতাসহ পানির স্বাভাবিক চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এতে খালের মুখে পলি জমার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জরিপ ও তদন্তে আরও দেখা যায়- আপনি অবৈধভাবে বার্জের সাথে কনভেয়র বেল্ট ও ক্রেন স্থাপন করে পাথর ও অন্যান্য মালামাল লোডিং-আনলোডিং করছেন। নদীর ব্যাঙ্ক লাইনও ভরাট করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনী।’
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর কাওছার রশিদ স্বাক্ষরিত চিঠিতেও মো. ফেরদৌস ইউসুফ ও মেসার্স এসএস ট্রেডিংকে একই ভাবে অভিযুক্ত করা হয়। চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে আরও বলা হয়- ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত অতিরিক্ত নদীমুখ ব্যবহার করায় আরোপিত জরিমানা বাবদ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা ২০২২ সাল থেকে পরিশোধ করা হয়নি। অপরিশোধিত ভাড়া ও জরিমানা পরিশোধ এবং জেটি, কনভেয়র বেল্ট ও ক্রেন আর ভরাটকৃত জায়গা থেকে মাটি অপসারনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অথরাইজ অফিসার সাদিয়া আফরিন কচির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- মো. ইউসুফ মিয়া ও মেসার্স এস এস ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত ও জরিপ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভিন্ন দপ্তর থেকে জেটি ও মাটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে দ্রুত উচ্ছেদসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে মেসার্স এসএস ট্রেডিংয়ের কোন মালিককে পাওয়া যায়নি। তারা বর্তমানে আত্মগোপনে বলে জানা গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল মাশরুর আহমেদ নামের ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা প্রতিবেদকের সাথে মোবাইলে কথা বলবেন বলে জানান। কয়েকদিন অপেক্ষা করার পরও তারা তাদের কোন বক্তব্য জানাননি।