প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৬ পিএম (ভিজিট : ২০)

X
ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইনকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, এসব দেশ চলমান পরিস্থিতিতে “অসাধারণ ভূমিকা” পালন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যর্থ হতে দেবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান ও অংশীদারিত্বের প্রতি তার প্রশাসনের দৃঢ় সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।
ভাষণে ট্রাম্প খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেন। তবে এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি ইরানকে দায়ী করে বলেন, ‘পেট্রোলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি মূলত ইরানি শাসকগোষ্ঠীর ‘সন্ত্রাসী’ হামলার ফল। তারা বাণিজ্যিক তেল ট্যাঙ্কার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালাচ্ছে, যার সাথে এই মূল সংঘাতের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি আশ্বস্ত করেন যে, তেলের এই দাম বৃদ্ধি কেবল ‘স্বল্পমেয়াদী’।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমান হামলাগুলোই প্রমাণ করে যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রশ্নে ইরানকে কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরান এই মারণাস্ত্র হাতে পেলে তা দ্রুত ব্যবহার করবে এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে এমন অর্থনৈতিক দুর্ভোগ ও অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে যা আগে কখনো কল্পনাও করা যায়নি।’
বিশেষত হরমুজ প্রণালী নিয়ে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরান-অবরুদ্ধ এই কৌশলগত জলপথ পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘প্রণালীতে যাও এবং তা দখল করে রক্ষা করো।’ তার মতে, এই দেশগুলোর অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।