প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম (ভিজিট : ১০৬)

X
অ্যাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিশেষ একটি অ্যাপভিত্তিক পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি বিতরণে আনা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ। এতে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান ছাড়া এখন আর তেল সংগ্রহ করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি দিনে একবারের বেশি তেল নেওয়ার সুযোগও বন্ধ হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে ছয়টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। প্রতিদিন এসব স্টেশনে প্রায় ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ১২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন পাম্প থেকে ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করতে থাকে। এতে প্রকৃত ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়েন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন চালু করেছে অ্যাপভিত্তিক একটি নজরদারি ব্যবস্থা। এখন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে গেলে গ্রাহককে নির্ধারিত অ্যাপে পাম্পের নাম, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জ্বালানির ধরন ও পরিমাণ উল্লেখ করে তথ্য দিতে হচ্ছে। এসব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে সংরক্ষিত হচ্ছে। ফলে একজন গ্রাহক দিনে একবারের বেশি তেল নিতে পারছেন না। অন্য কোনো পাম্পে গিয়ে পুনরায় তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে অ্যাপ থেকেই সতর্কবার্তা দেখানো হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাইকার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, আগে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করে রাখতেন, যার কারণে নিয়মিত কাজে ব্যবহারের জন্য তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে অ্যাপ চালুর ফলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীরা সহজেই তেল পাচ্ছেন।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অ্যাপ চালুর পর পাম্পগুলোতে অযাচিত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা কমেছে, ফলে সেবা প্রদান আরও সহজ হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি একাধিক ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে মজুত করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছিলেন। এই সমস্যা সমাধানে অ্যাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে একজন গ্রাহক দিনে একবারের বেশি তেল নিতে পারছেন না এবং পুরো কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি কমবে।