
X
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বাংলার নবাব মীর জাফরের অনেক বংশধরের নাম। ভারতের নির্বাচন কমিশন পরিচালিত ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নামের তালিকা দফায় দফায় প্রকাশিত হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের লালবাগের 'কেল্লা নিজামত' এবং তার আশপাশের অঞ্চলের বাসিন্দা নবাব বংশের ১৫০-এর বেশি সদস্যের নাম ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে।
বাদ পড়েছে 'ছোটে নবাব' নামে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা এবং তার পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জার নামও।
তাদের পরিবার জানাচ্ছে, প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে অনেককেই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল এবং সেখানে তারা সব নথিপত্র জমাও দিয়েছিলেন। তবুও বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, ১৯৪৭ সালে অনেক প্রলোভন সত্ত্বেও যে পরিবারের বেশিরভাগই পাকিস্তানে না গিয়ে ভারতে থেকে গিয়েছিলেন, এত বছর পরে কেন নতুন করে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে?
তবে মীরজাফর পরিবারের একজন নামজাদা সদস্য পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। সেই ইস্কান্দার আলি মির্জা পাকিস্তানের চতুর্থ ও শেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার জন্মও লালবাগের কেল্লা নিজামতেই, যেখানে এখন থাকেন ছোটে নবাব সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা এবং তার রাজনীতিবিদ পুত্র সৈয়দ ফাহিম আলি মির্জারা।
ভারতে মীর জাফরের বংশে এখন প্রায় হাজার তিনেক সদস্য আছেন।
ছোটে নবাব বলে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জার ছেলে সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা বলেন, তারা বুঝতেই পারছেন না যে কেন তাদের পরিবারের এত সদস্যের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হলো।
তার কথায়, এই প্রশ্নের জবাব তো নির্বাচন কমিশন দেবে। আমাদের কাছে এর উত্তর নেই। তবে একটা কথা জানিয়ে রাখি, এর আগে ভোটার তালিকায় আমার আর আমার বাবার নামের থেকে একটা করে শব্দ বাদ গিয়েছিল। ২০০২ সালে যে তালিকার ভিত্তিতে এবার এসআইআর হয়েছে, তাতে বাবার নাম ছিল 'মহম্মদ রেজা আলি মির্জা', সেখানে সৈয়দ ছিল না। আবার আমার নাম ছিল সৈয়দ ফাহিম মির্জা, মুহাম্মদ ছিল না। কমিশনের নিয়ম মেনে পরে দুজনেই নাম সংশোধন করি। তবুও এবার এসআইআর -এ আমাদের নাম প্রথমে 'বিবেচনাধীন' ছিল আর এখন বাদ দিয়ে দেওয়া হলো।
তিনি জানান, নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে আবেদনের পথ আছে, আমরা সেখানে আবেদন করবো। কিন্তু শুনানি হতে এত সময় লাগবে যে ততদিনে বিধানসভা ভোট পেরিয়ে যাবে পরিবারের কেউই এ বছর ভোট দিতে পারবেন বলে মনে হয় না।