সংযোগ সড়ক না হওয়ায় মহাদেবপুরে আত্রাই নদীতে নির্মিত ব্রীজটি কোন কাজেই আসছে না

নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীতে নির্মিত ব্রীজটি কোন কাজেই আসছে না।

2026-04-04T13:04:04+00:00
2026-04-04T13:04:04+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
সংযোগ সড়ক না হওয়ায় মহাদেবপুরে আত্রাই নদীতে নির্মিত ব্রীজটি কোন কাজেই আসছে না
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম   (ভিজিট : ৭৫)
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীতে নির্মিত ব্রীজটি কোন কাজেই আসছে না।
X

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীতে নির্মিত ব্রীজটি কোন কাজেই আসছে না।

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীতে নির্মিত ব্রীজটি কোন কাজেই আসছে না। বাধ্য হয়ে নদী পারাপারে এলাকাবাসীকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান করে ব্রীজটি চলাচলের উযোগী করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়- উপজেলার শীবগঞ্জ ও গোপিনাথপুর বাজারে আত্রাই নদীর মাঝে ২০২১ সালে ২৩ মার্চ ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫৯ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজটি করছেন ঢাকার দিলকুশার ম্যাক্স ইনফাট্রাকচার নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কাজের শেষ সময় ছিল ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে সময় বৃদ্ধি করা হয়। গত এক বছর আগে ব্রীজ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ইতোমধ্যে ব্রীজের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে ব্রীজের কাজ শেষ হলেও পূর্ব পাশে শীবগঞ্জ বাজারে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় ব্রীজের দুই পাশে বেড়া দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ব্রীজ দিয়ে পারাপার বন্ধ রয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। নদীটির পূর্বপাশে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন ও পশ্চিম পাশে চান্দাশ ইউনিয়নকে ভাগ করেছে। উপজেলা সদরে ডাক-বাংলোর পাশে একটি এবং ১৬ কিলোমিটার দুরে জেলার মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ফেরিঘাট নামক স্থানে একটি ব্রীজ আছে। এরমাঝে আর কোন ব্রীজ নাই। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে আত্রাই নদীর পূর্ব পাশে শীবগঞ্জ হাট-বাজার এবং পশ্চিমপাশে গোপিনাথপুরে ছোট বাজারে একটি খেয়াঘাট রয়েছে। এখানে শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার হোন স্থানীয় সহ মান্দা, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলার বাসীন্দারা। প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ৪-৫ হাজার মানুষ পারাপার হয়। শীবগঞ্জে হাট-বাজারের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। ভ্যান সহ বড় যানবাহন উপজেলা সদর দিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।
পশ্চিমপাশ থেকে পূর্ব পাশে শীবগঞ্জে অন্তত ১৫০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়ার জন্য যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে তেমন ঝুঁকি না থাকলেও বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের পারাপার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবকদের।

গোপিনাথপুর গ্রামের সালমান ফারসি বলেন- বর্ষায় নদী পার হতে নৌকার জন্য আধাঘন্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়। নদী পার হয়ে ওপারে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বর্ষার সময় নদীতে ভরপুর পানি থাকলে নৌকা পারাপারে আরো ভয়াবহ অবস্থা হয়। বাচ্চাদের জন্য দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ব্রীজটি চালু হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুংখ ও কষ্ট দুর হবে।

খেয়াঘাটের মালিক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, এ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পারাপার হয়। এ স্থানে একটি ব্রীজ হবে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো। অবশেষে ব্রীজ নির্মাণ হয়েছে কিন্তু এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবী জানাই।

কাঞ্চন গ্রামের বয়জেষ্ঠ্য সিরাজুল ইসলাম বলেন- গত প্রায় ৫০ বছর থেকে এ খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছি কখনো নৌকায় আবার কখনো বাঁশের সাঁকোতে। বর্ষায় আবার নদী পার হতে গিয়ে অনেক সময় বৃষ্টিতে ভিজতেও হয়েছে। একটি ব্রীজ নির্মাণ হয়েছে কিন্তু আমরা এখনো চলাচল করতে পারছিনা। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।

মান্দার সতিহাট গ্রামের বাসীন্দা বয়জেষ্ঠ্য আক্কাস আলী বলেন, মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সুবাদে এ খেয়াঘাট দিয়ে গত প্রায় ২০ বছর থেকে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্রীজটি চালু হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে এবং খরচও কমে আসবে।

কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল মজিদ বলেন, অনেক আগেই আমাদের ব্রীজের কাজ শেষ হয়েছে। তবে পূর্বপাশে ভূমি জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ব্রীজ দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ব্রীজের সংযোগ সড়কের কাজটি থেমে আছে। এ কারণে চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে এবং ব্রীজটি চলাচলের উপযোগী হবে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy