শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৮টার দিকে পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার (ফখরুদ্দিন মোড়ে) আব্দুল কাদিরের মালিকানাধীন বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে।
বাড়ির মালিক আব্দুল কাদির বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভাড়াটিয়াদের একটি কক্ষের এক বাসিন্দা মোমবাতি জ্বালিয়ে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে ওই ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দ্রুত আশেপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী স্থানীয় ফায়ার স্টেশনে খবর দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান।
প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ভাড়াটিয়াসত বসতবাড়ীর ১৯টি কক্ষসহ সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মিয়া জানান, জামালপুরের ইসলামপুর এলাকার নাগরিক ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের ডেনিমেক গার্মেন্টসের পোশাক শ্রমিক নাসরিন-মানিক সরকার দম্পতির সব চেয়ে থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রতি মাসের তাদের বেতন থেকে সামান্য জমানো নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং মূল্যবান জিনিপত্র পুড়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা একই কারখানার শ্রমিক দম্পত্তি আসমা-আব্দুল জলিলের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের ঘরে থাকা আলমিরা, ওয়ারড্রপ, ড্রেসিংটেবিল, সুকেসসহ আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে গেছে।
ওই ঘরের বাসিন্দা গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা রুনা আক্তার-সবুজ দম্পতি স্থানীয় আমান টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করেন। অগ্নিকান্ডের সময় তারা কারখানায় কাজ করছিলেন। খবর পেয়ে এসে দেখেন তাদের ঘরের সব মালামল পুড়ে গেছে। এতে তাদে দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই কারখানার অপর শ্রমিক বেদেনা আক্তার বলেন আগুনে তারও প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।

এদিকে, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহবায়ক এস এম আবুল কালাম আজাদ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলেন। তিনি অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার কথা বলেন এবং সান্তনা দেন। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ মূল্যবান কাপড় পুড়ে গেছে। পোশাক শ্রমিকদের কষ্টের জমানো টাকা ও স্বপ্ন আগুনের শেষ হয়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থেকে সরকারি বা বেসরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ নুরুল করিম জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বসতবাড়ীতে আগুন লাগার খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিটের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে মোমবাতি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর বলা সম্ভব হবে।