
X
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রকাশ্য তাণ্ডবে একাধিক বাড়িঘর ও দোকানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা এবং বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন, চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারী সংক্রান্ত একটি পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সোনাপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অনৈতিক কার্যক্রম চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে পাশের মাসকরা গ্রামের এক ব্যক্তি সেখানে গেলে স্থানীয় কিছু যুবক তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে।
এরপর ওই ঘটনার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে “ডাকাত ঢুকেছে” এমন ঘোষণা ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে সোনাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পর শনিবার বিকেলে আহতের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০-৭০ জন যুবক নিয়ে মাসকরা গ্রামে হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার রানা ও রুবেল। তারা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে অন্তত ২০টি বসতঘর ও ৬টি দোকান ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে।
হামলার সময় ঘরবাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য মালামাল লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়া ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পরবর্তীতে পাল্টা হামলায় মাসকরা এলাকার লোকজন সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার চারটি বসতঘর পুড়ে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও কাজ করেন। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুনে বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুড়ে যায়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলায় জড়িত রুবেল ও রানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের একাধিক মামলা রয়েছে।