
X
মানববন্ধন
নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকউলি বহুমুখী হাইস্কুল এন্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম নিয়োগ বাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের পুকুর লিজ ও বাগানের গাছ বিক্রিসহ বিভিন্ন খাত থেকে অন্তত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুদ্দীন সরদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফ, খাইরুল আলম ও আব্দুস সাত্তার,দাতা সদস্য রুস্তম আলী, অভিভাবক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চাঁদ ও স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা আরও বলেন, অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলেও তা শেষ হওয়ার আগেই তাকে পুনর্বহালের জন্য অধিদপ্তর থেকে পত্র দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত রহস্যজনক।
দাতা সদস্য রুস্তম আলী বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কোনো নির্বাচিত গভর্নিং বডি নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্ত শেষ না করে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুনর্বহালের উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
অভিভাবক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চাঁদ বলেন, বরখাস্তের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। সেই রিটের নিষ্পত্তি কিংবা তদন্ত শেষ না হওয়া সত্ত্বেও তাকে চেয়ারে বসানোর তোড়জোড় আমাদের বিস্মিত করেছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য আমাকে বিদ্যালয়ে যেতে বাধা দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।’
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতেই পুনর্বহালের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখানে প্রশাসনের ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা বা উদ্দেশ্য নেই।’