হাওর বাঁচাতে নদী ও বিল খননে কার্যকারি উদ্যোগ চায় হাওরবাসী

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সমূহের হাওর ও কৃষক বাঁচাতে দুর্যোগ ঠেকাতে হলে,নদী, খাল ও বিল খনন জরুরি। সরকারের কার্যকারি

2026-04-09T17:53:50+00:00
2026-04-09T17:53:50+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
হাওর বাঁচাতে নদী ও বিল খননে কার্যকারি উদ্যোগ চায় হাওরবাসী
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ১৯৪)
কার্যকারি উদ্যোগ চায় হাওরবাসী
X

কার্যকারি উদ্যোগ চায় হাওরবাসী

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সমূহের হাওর ও কৃষক বাঁচাতে দুর্যোগ ঠেকাতে হলে,নদী, খাল ও বিল খনন জরুরি। সরকারের কার্যকারি উদ্যোগ চায় হাওরবাসী। এবছর বোরো ফসল শীলা বৃষ্টিতে আংশিক ক্ষতি হলেও, বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতার কবলে প্রায় অর্ধেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই হাওরাঞ্চলে। যেটুকু আছে তও জলাবদ্ধতার কারণে, ফসল ঘরে তুলতে দুর্ভোগে পরেছে কৃষক। 

ধান গাছের গলায় গলায় পানি থাকার কারণে, কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পরছে। তাছাড়াও ধান কাটা এবং মাড়াতে মিলছে না শ্রমিক। ধান সংগ্রহের সংকটে পরে এলাকা জুড়ে কৃষকের বোবা কান্না। কেড়ে নিলো কালবৈশাখের দুর্যোগে কৃষকের মুখের হাসি। কৃষকের শুধুই গম্ভীর কণ্ঠে রয়েছে হতাশার আগুন। বোরোধান ফলানোর মৌসুমে দুর্যোগ ঠেকাতে হাওর বাঁচাতে নদী, বিল, খাল খনন খুবই জরুরি। কৃষক বাঁচাতে হলে, হাওর বাঁচাতে কার্যকারি উদ্যোগ চায় হাওরবাসী।

এ বিষয়ে অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, টেকসই হাওর রক্ষা বাঁধের মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে হাওর উন্নয়নে স্থায়ীবাঁধ এবং স্লুইসগেট নির্মাণ করে, ধান মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ গ্রহন করা অতি জরুরি। তাছাড়া বিগত দিনে সরকার হাওর ভাবনায়, হাওর  উন্নয়ন করতে সঠিক গবেষণার মাধ্যমে সু-পরিকল্পনার অভাব ছিলো বলে,মন্তব্য করেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। হাওর রক্ষা বাঁধেই এখন হয়ে উঠেছে কৃষকের কাল। দিনদিনে হাওরের প্রাকৃতির ভৌগোলিক বিপর্যয় বেড়েই চলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো কতৃক, হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প চালু থাকলেও,বর্তমানে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ঐ বাঁধ গুলো।  লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতে দেখা গেছে। এমনটাই মনে করছেন বুদ্ধিজীবি গোষ্ঠীরা।

যেমন বাঁধে মাটি ভরাট করতে সরকারের কান্দা কেটে উজাড় করছে গবাদিপশুর খাদ্য কাঁচাঘাস। সেই সাথে দেখা দিয়েছে মাটির সংকট,অপরদিকে ফসলি জমি বানিয়ে সুবিধাবাদিরা সরকারের জায়গা করছে দখল।  আবার ঐ বাঁধের মাটি বর্ষাকালে ঢেউ আর পানির স্রোতে ধীরে ধীরে মাটি সরে গিয়ে নদী,খাল,বিল ভরাট হচ্ছে। এতে দেখা দিয়েছে নানাবিধ প্রাকৃতিক সমস্যা। বিলের তলা ভরাট হয়ে জমির সাথে সমতল হয়ে গেছে বিলের ডোবাগুলো। ভারী বৃষ্টি হলেই  জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায় ফলানো বোরো ধান। অন্যদিকে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায়, ঢলের পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা গেছে হারিয়ে। যার ফলে নদীতে পানি থাকে টইটম্বুর,থাকে বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় পরে কৃষকরা হয় মরিয়া।

ইতিমধ্যে সরকার মেগা প্রজেক্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে, যেমন হাওর অঞ্চলের মানুষ দিনেদিনে দরিদ্র হবে, কৃষি কাজে আগ্রহ হারিয়ে যাবে।  তেমনি দেশ ও মানুষের খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিবে। তাছাড়া ফেব্রুয়ারি ও মার্চে পানি শুকিয়ে হয় মাছ নিধন। দেশের অর্থনৈতিক আয়ের উৎস ধানের পাশাপাশি, বৃহৎ সম্পদের একটি অংশ হচ্ছে মাছ। হাওর এলাকায় মাছ সম্পদ কোনো অংশে কম নয়। সু-পরিকল্পনার অভাবে প্রতিবছেই ধ্বংস হচ্ছে হাওরের দেশীয় মাছের ভান্ডার। বংশ নিধন হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজন্ম। হাওরবাসীর আয়ের প্রধান উৎস ধান উৎপাদনে প্রায়েই দেখা দেয় কালবৈশাখী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যার ফলে ফসলহানীর ঘটনার শিকার হয় হাওরবাসী কৃষকেরা। এবছর অতি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে,এতে ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি। যেটুকু আছে তা রক্ষা করতে প্রতিটি হাওরে ৫০ থেকে ১,শ, সেচ মেশিন বসিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কৃষকের ঋণের বোঝা মাথায় অনেকটা ভারী।

এসব দুর্যোগ ঠেকাতে সরকার ব্যর্থ হাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, হাওর গবেষণার সঠিক পরিকল্পনার অভাব। সরকারের উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো'র কতৃক হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ পিআইসির মাধ্যমে প্রতিবছেই কোটি কোটি টাকা করছ করে মেরামত করা হয়। অথচ সুফলের বদলে নষ্ট হচ্ছে হাওরের জৈববৈচিত্র, প্রাণ হারাচ্ছে নদী ও হাওরের খাল, বিল,ডোবা, নালা। প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায়, বাঁধের মাটি বর্ষাকালে ধীরে ধীরে ধ্বংসে নদীর গর্ভে চলে যায়,এতে নদীর গভীরতা হারিয়ে হাওরের সাথে সমতল হয়ে গেছে । তাছাড়াও বিলের তলা ভরাট হয়ে, ফসলি জমির সাথে সমতল হয়েছে।া যায় দরুন একদিকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের দিকে, বিল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে মাছ বসবাসের পানি থাকেনা, যার দরুন মা-মাছ সহ নিধন হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। অন্যদিকে বোরোধান ঘরে তোলার আগে আগে বৃষ্টির পানি, ধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে সমতল বিল, ডোবা, খাল,নালা। যার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নষ্ট হয় ফলানো ফসল বোরো ধান।

ভৌগোলিক অবক্ষয় রীতিমতো নিমন্ত্রিত হয়েই,দিন দিন ধান ও মাছ উৎপাদনে সংকট তৈরি হচ্ছে। দেখা যায় কালবৈশাখী দুর্যোগ শুরু হলেই, হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বিপাকে পড়েন হাওর অঞ্চলের কৃষক। বোরোধান ঘরে তোলার সময় একদিকে পাহাড়ি ঢল, অন্যদিকে বৃষ্টি পানির কবলে পরে শুরু হয় কৃষকের দুর্দশা।

হাওর বাঁচাতে সঠিক গবেষণার মাধ্যমে, সু-পরিকল্পনার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের উদ্যোগ নেয়া খুবই জরুরি। হাওরের উন্নয়ন করতে এরমাঝে জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন,বিল খনন ও নদী খননের মাধ্যমে বেড়িবাঁধে ব্লক স্থাপন করে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসীর।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy