প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৪ এএম (ভিজিট : ৭৩)

X
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন, যেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এবং কঠোর নীতিমালা।
২০২৪ সালের জুনে শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এ আর রামানান, বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন অংশ নেন। আলোচনায় দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।
নতুন ব্যবস্থায় অভিবাসন ও নিয়োগসংক্রান্ত সব ব্যয় কর্মীর ওপর না চাপিয়ে সরাসরি নিয়োগকর্তাকে বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি আধুনিক এআই-ভিত্তিক সিস্টেম চালু করা হবে, যা দালালচক্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ এজেন্সিগুলোকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
এবার একযোগে পুরো শ্রমবাজার না খুলে ধাপে ধাপে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নির্মাণ খাতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৮০০ কর্মী ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মরত আছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ। বিশেষ করে কলকারখানা, নির্মাণ ও কৃষিখাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা বেশি থাকায় আগামী এক বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের সব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে ইতিবাচক ফল আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, অতীতের কিছু অব্যবস্থাপনা থেকে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত দূর করা সম্ভব না হলেও সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা, উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা কার্যকর হলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।