প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম (ভিজিট : ৪১)

X
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমান ও পোড়া-ঝামা ইটের খোয়া ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করলেও মানছেন না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা এলজিইডির অধীনে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ভেড়ামারা চৌরাস্তা বাজার থেকে ধানুয়াঘাটা অভিমুখে সড়কের ৩হাজার ৫শ'৭৬ মিটার দৈর্ঘ্যে সড়কে সংস্কারের কাজ পান কুষ্টিয়ার সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাজটি দেখভাল করছেন পাবনার একটি সাব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অফিস আদেশে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সড়ক সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে খোজ-খবর নিয়ে জানা যায়, ঝাঁমা ইটের নিম্নমানের খোয়ার সঙ্গে কিছু ভালো খোয়া মিক্সিং করে কাজ করা হচ্ছে। এমনকি এই কাজ তদারকির জন্য অফিসের একজন কর্মচারীর দেখা মিললেও কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ও পোড়া ইটের খোয়া ব্যবহার করে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী আঞ্চালিক অফিসের তত্বোবোধয়ক প্রকৌশলী মমিন মজিবুল হক অতি সম্প্রতি কাজটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কারের সত্যতা পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তার পরেও কোন কিছু তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের ইটের খোয়া বিছিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছে। বামুন ও বিল রহুল পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি পাবনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মমিন মজিবুল হক বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের তা সরিয়ে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এলজিইডি পাবনার অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর মৌখিক নির্দেশনা কাজ শুরু করা হয়েছে। এ সড়ক সংস্কার কাজের এখনোও অফিসিয়াল ওয়ার্ক অর্ডার পাইনি। তবে তত্বোবোধয়ক প্রকৌশলী মহোদয় সম্প্রতি কাজটি পরিদর্শন করে কয়েকটি ত্রুটি চিহ্নিত করেছেন। সেসব ত্রুটি অপসারণ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাবনার সাব-ঠিকাদার রুবেল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভাব হয়নি
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মিজানুর রহমান বলেন, নিম্নমানের ইটের খোয়া সরিয়ে ফেলার কথা। যদি না সরানো হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।