ফি'লিস্তিনি নারীদের হাতে কিসের নম্বর লিখছে ই'সরায়েলি সেনারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে চলমান অভিযানের সময় ডজনখানেক ফিলিস্তিনি নারীর হাতে নম্বর লিখে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

2026-04-16T18:05:34+00:00
2026-04-16T18:05:34+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ফি'লিস্তিনি নারীদের হাতে কিসের নম্বর লিখছে ই'সরায়েলি সেনারা?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ পিএম   (ভিজিট : ৭৮)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে চলমান অভিযানের সময় ডজনখানেক ফিলিস্তিনি নারীর হাতে নম্বর লিখে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে মাত্র ১২০ জন নারীকে তাদের ঘরবাড়ি পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য শিবিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তখনই তাদের সঙ্গে এই আচরণ করা হয়। 

উত্তর পশ্চিম তীরে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর জেনিন ও অন্যান্য শিবির থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমানে শিবিরের একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অনেক এলাকা এখনও দুর্ভেদ্য। সেখানে স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

যে নারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তারা দুই ঘণ্টারও কম সময় সেখানে থাকার সুযোগ পান। এই সময়ের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে তল্লাশি এবং ভারী সামরিক নজরদারিতে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে হাঁটার অপেক্ষায়। শিবিরে প্রবেশের আগে তল্লাশির সময় সেনাদের হাতে থাকা কলম দিয়ে নারীদের হাতে বিভিন্ন নম্বর ও অক্ষর লিখে দেওয়া হয়।

উম্মে ফাদি ওয়াহদান নামের এক নারী বলেন, আমাদের বাড়ি কোন এলাকায়, সেই অনুযায়ী তারা আমাদের হাতে নম্বর লিখে দিয়েছিল। তিনি আরও জানান, সকালে প্রবেশের খবর পেয়ে তারা পৌঁছালেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তপ্ত রোদে প্রায় তিন ঘণ্টা তাদের দাঁড়িয়ে রাখা হয়। এমনকি সেনারা ইচ্ছে করে মহল্লার চিহ্ন বদলে দিয়ে তাদের প্রবেশে দেরি করিয়ে দেয়।

শিবিরে প্রবেশের পর ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা দেখে অনেক নারীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তারা নিজের এলাকা বা বাড়ি পর্যন্ত চিনতে পারছিলেন না। রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে এবং চারদিকে নোংরা আবর্জনা ও পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

ওয়াহদান আক্ষেপ করে বলেন, আমি পাড়ায় গিয়ে দেখি আমার পাঁচতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ৩০ জন মানুষ সেখানে থাকতাম, কিন্তু ছাই ছাড়া কিছুই খুঁজে পাইনি। মনে হচ্ছিল কেন এখানে এলাম, এই সফর আমাদের পুরোনো ক্ষতকে আবারও জাগিয়ে দিয়েছে।

আবির আল-সাব্বাগ জানান, শিবিরে প্রবেশের আগে নারী সেনারা তাদের বিবস্ত্র করে তল্লাশি চালায়। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে চূড়ান্ত অবমাননাকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক বলে বর্ণনা করেন।

সাব্বাগ বলেন, যখন জানতে পারলাম বিবস্ত্র করে তল্লাশি করা হবে, আমি নারী সেনাকে বলেছিলাম যে আমি ফিরে যেতে চাই, আমার আর দেখার দরকার নেই। কিন্তু সে জবাব দিলো, তুমি ফিরে যেতে চাইলেও তোমাকে এই তল্লাশির মধ্য দিয়েই যেতে হবে।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy