
X
বিজিবির বিশেষ অভিযান জোরদার
ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি ও অভিযান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির যশোর রিজিয়নের অধীন ২টি সেক্টরের ৭টি ইউনিট এবং ১১৬টি বিওপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, পাচার ও মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত উদ্যোগ। এর আওতায়—বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে বিশেষ তল্লাশি, সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নজরদারি, ২৫ হাজার ৮৪টি টহল ও ৯১৬টি চেকপোস্ট পরিচালনা, ৯০৯টি জনসচেতনতা সভা আয়োজন, ৪০টি টাস্কফোর্স ও ৬৬টি যৌথ অভিযান পরিচালনা এসব অভিযানে অবৈধ তেল জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া ঈদ উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
২০২৬ সালে যশোর রিজিয়ন ৯৬ জন আসামিসহ প্রায় ৬২ কোটি ৪০ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে। অপরদিকে ২০২৫ সালে ৪২০ জন আসামিসহ প্রায় ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালে প্রায় ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য এবং ২০২৫ সালে প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে।
নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) নিজস্ব অভিযানে ২০২৫-২০২৬ সময়ে ৩১ জন আসামিসহ প্রায় ১৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার চোরাচালানী পণ্য আটক করেছে। এর মধ্যে অস্ত্র-গোলাবারুদ, ৫ হাজারের বেশি ফেন্সিডিলের বোতল, লক্ষাধিক ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে।
বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব জানান, বিজিবিকে সীমান্তে “নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বাহিনীটি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচার প্রতিরোধসহ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।