
X
সংগৃহীত ছবি
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ফারজানা ইয়াসমিন। তাকে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। সেজন্য ভাড়ায়চালিত (রাইডশেয়ারিং) মোটরসাইকেলে চলাচল করেন তিনি।
রোববার সকালে অফিসের কাজে মিরপুরের ইসিবি চত্বর থেকে গুলশান ২ এর ৫৫ নম্বর সড়কে যান ফারজানা।
তিনি বলেন, ‘আগে ইসিবি চত্বর থেকে এখানে আসতে ১০০ টাকার মতো ভাড়া লাগত। গতকালকে ১৪০ টাকা দিয়েছি।’ জ্বালানি তেলের সংকট আর দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের মধ্যে এবার দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। গত শনিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। জানানো হয়, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।
এরই মধ্যে জনজীবনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের শুরুতেই জুহির মতো অফিসগামী অনেককে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে আগের চেয়ে বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।
তবে মোটরসাইকেলের চালকদের ভাষ্য, একে জ্বালানি তেল পাওয়া দুষ্কর, তার ওপর দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই তাদের ভাড়া বেশি নিতে হচ্ছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গতকাল ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে গুলশানে যান রহিম হাওলাদার। বাইকের চালক করিম মিয়া তাকে বলেন, শুক্রবার রাতে প্রায় সাত ঘণ্টার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল নিয়েছেন। এরপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর শোনেন।
করিম মিয়া আরও বলেন, ‘তেল নিতেই অনেক সময় চলে যায়। এখন আবার দাম বাড়ছে। ভাড়া তো বাড়বেই। অ্যাপগুলো ভাড়া সমন্বয় না করলে, আমাদের একটু বেশি টাকা চেয়ে নিতে হবে।’
গুলশানে কথা হলো কবির মিয়ার সঙ্গে। তিনি থাকেন মিরপুরে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুবাদে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে গুলশানে অফিস করেন। তিনি জানালেন, সকালে একটি রাইডশেয়ারিং অ্যাপে মোটরসাইকেল ডেকে মিরপুর ১০ থেকে যান। ভাড়া লেগেছে ২৬০ টাকা। কবির মিয়া আরও বলেন, ‘শুক্রবার অফিস থেকে ফেরার সময় ভাড়া লেগেছিল ১৮০ টাকা এখন সেটা সকালেই হয়ে যায় ২৪০ টাকা।
তার নিজের মোটরসাইকেলে তেল না থাকায় ভাড়ায় পাওয়া মোটরসাইকেলে অফিসে যাতায়াত করেন।’ রাজধানীর সব এলাকা থেকে রাইডশেয়ারিং অ্যাপে ডাকা মোটরসাইকেলে ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। আবার অন্যদিকে অনেকেই রাইডশেয়ারিং না চালিয়ে বেশির ভাগ সময় চুক্তিতে চালান। তাতে করে আরো বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।