
X
‘জোগাসু’ প্রযুক্তির উদ্বোধন
উপকূলীয় শহর পাইকগাছাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক পয়ঃবর্জ্য শোধন প্রযুক্তি ‘জোগাসু’(Johkasou)-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে পাইকগাছা পৌরসভার অর্ন্তগত পৌর পানি সরবরাহ ও পয়নিস্কাশন শাখার উন্নয়ন কাজ সমাপ্তি শেষে শাখার কার্যক্রম উদ্ভোধন করা হয়। উক্ত শাখার উন্নয়ন কাজের মধ্যে অন্যতম পানি গুনগতমান পরীক্ষাগার স্থাপন এছাড়াওপানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফ্লো মিটার রিডিং পর্যবেক্ষণের সুব্যবস্থাসহ ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটার এইডের কারিগরি সহযোগিতায় নবলোকের তত্তাবধায়নে এই প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও পৌর প্রশাসক জনাব ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নবলোক পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী রাজিব ইকবাল, ওয়াটার এইড বাংলাদেশ টিম লিডার জাকিয়া নাজনীন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নিহাল আজমাত মহি, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আহসানারা বিনতে আহমেদ, উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লালু সরদার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: লিংকন আলী, প্রধান সহকারী শেখ জিয়াউর রহমান, লাইসেন্স পরিদর্শক মৃনালকান্তি সানা,কর আদায়কারী মো:সাইদুর রহমান,উচ্চমান সহকারী উত্তম কুমার ঘোষ, কঞ্জারভেন্সী ইন্সপেক্টর বিকাশ চন্দ্র ঘোষ, বিল ক্লার্ক মো:শাহিন হোসেন ও কম্পিউটার অপরেটর মো: হজরত আলী।
এখন থেকে পাইকগাছা পৌরসভার বিভিন্ন বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেলে তা আর সনাতন পদ্ধতিতে পরিষ্কার করতে হবে না। পৌরসভার বিশেষ ভ্যাকুয়াম ট্রাক বা গাড়ির মাধ্যমে নির্ধারিত ফি দিয়ে সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে মল সংগ্রহ করে এই ‘জোগাসু’ ইউনিটে আনা হবে। সেখানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য শোধন করে পানি ও জৈব সারে রূপান্তর করা হবে।
উদ্বোধনকালে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, জাপানি এই ‘জোগাসু’ প্রযুক্তি মূলত একটি ক্ষুদ্রাকার বর্জ্য শোধনাগার। এর প্রধান সুফলগুলো হলো:
দূষণমুক্ত পরিবেশ: বাসাবাড়ির বর্জ্য সরাসরি নালা বা খালে না ফেলে এই সিস্টেমে আনায় ভূগর্ভস্থ পানি ও কপোতাক্ষ নদের পানি দূষণমুক্ত থাকবে।
দুর্গন্ধহীন শহর: এই পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বর্জ্য পচন রোধ করে দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়, ফলে শহর হবে দুর্গন্ধমুক্ত।
জনস্বাস্থ্য রক্ষা: অনিরাপদ বর্জ্য অপসারণ বন্ধ হওয়ায় ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
পানির পুনঃব্যবহার: প্ল্যান্ট থেকে পরিশোধিত হয়ে আসা ৯৫% বিশুদ্ধ পানি বাগান করা বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।
পৌর প্রশাসক জনাব ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী স্যার বলেন, পাইকগাছাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। ওয়াটার এইডের সহায়তায় এই জোগাসু প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে আমরা বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। এটি পরিবেশ রক্ষায় এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ওয়াটার এইড, নবলোক ও পৌরসভার এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই আধুনিকীকরণ পাইকগাছা পৌরসভার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং টেকসই উন্নয়নে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করছেন সবাই।