
X
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস
“সরকারি খরচে বিরোধ নিষ্পত্তি, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং বগুড়া জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির।
উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য, আইনজীবী, এনজিও প্রতিনিধিসহ সচেতন নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) আবু কাহার।
আলোচনা সভায় দিবসটির তাৎপর্য ও লিগ্যাল এইডের সুফল তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির। এছাড়াও বক্তব্য দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোঃ আনোয়ারুল কবির, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এ.এস.এম. তাসকিনুল হক, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মোঃ সাইফুল ইসলাম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আজিজুল হাকিম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান মিন্টু এবং সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি.) শফিকুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অসহায় বিচারপ্রার্থীরা অনেক সময় আদালতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারেন না।
তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিপুল ব্যয় বহন করতে না পারায় অনেক মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। আর্থিক অভাবের কারণে কোনো নাগরিক আইনের আশ্রয় নিতে পারবে না, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চরিত্র হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বহু উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও আইনগত সহায়তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আইনি সুরক্ষা ও সেবা প্রদানে বাংলাদেশ সরকার সাংবিধানিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি সেই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসময় তিনি লিগ্যাল এইডের সুফল আরও জনমুখী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
জানা যায়, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি হতে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখ পর্যন্ত আইনগত সহায়তা প্রদান করেছে ১ হাজার ৪৫৩ জনকে। এরমধ্যে নারী ৭৭৯ জন ও পুরুষ ৬৭৪ জন। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) এর মাধ্যমে মামলা/অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয় ১ হাজার ৩৮২টি।একই সাথে দেনমোহর, ভরণপোষণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষদের দুই কোটি সাতষট্টি লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার এক শত টাকা আদায় করে প্রদান করা হয়েছে।