রাজনগরে অতিবৃষ্টিতে ডুবছে হাওর, শংকিত বোরো চাষীরা

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় টানা দুদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাউয়াদীঘি হাওরসহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে

2026-04-28T18:27:38+00:00
2026-04-28T19:52:15+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রাজনগরে অতিবৃষ্টিতে ডুবছে হাওর, শংকিত বোরো চাষীরা
রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম  আপডেট: ২৮.০৪.২০২৬ ৭:৫২ পিএম  (ভিজিট : ৩৪২)
অকাল বন্যায় হাওর ডুবি
X

অকাল বন্যায় হাওর ডুবি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় টানা দুদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাউয়াদীঘি হাওরসহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অকাল বন্যার এ পরিস্থিতিতে আধাপাকা বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। শ্রমিক সংকট, অস্বাভাবিক মজুরি বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কাউয়াদীঘি হাওরের বেতাগুঞ্জা গ্রামের কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে যারা কাজ করছেন, তাদের অর্ধেক সময় কাজ করলেও পূর্ণ দিনের মজুরি দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, একজন শ্রমিকের জন্য প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা ব্যয় হলেও বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টিতে হাওরের ধান ঝরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ডিজেল সংকটের কারণে যান্ত্রিক সুবিধা ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

কৃষক সাইফুল মিয়া বলেন, কষ্ট করে ধান কেটে আনার পরও রোদের অভাবে তা শুকানো যাচ্ছে না। ভেজা ধান স্তূপ করে রাখায় তাতে চারা গজিয়ে যাচ্ছে, ফলে তা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আলামিন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় মোট ১৪ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ৬ হাজার ২৩৭ হেক্টর। এ পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৬১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি কৃষকদের ধান ৮০ শতাংশ পাকার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। ফতেপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর, সোনাপুর ও অন্তেহরি এলাকায় ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং পাম্পগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন শেষে জানান, পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে কাশেমপুর পাম্প হাউসের ৭টি পাম্প চালু রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিক সংকট নিরসনে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিশেষ টিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি সচল রাখতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টার প্রবেশ করতে না পারায় ধান কাটার কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় প্রশাসনের মতে, ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এবং যান্ত্রিক ও মানবশ্রমের সমন্বয়ে দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনগরের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy